প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৫৪ পিএম আপডেট: ১৭.১১.২০২৫ ২:৫৭ PM

সংগৃহীত ছবি
‘আমার রুমালে একটু গ্লিসারিন মেখে দাও, লাশ দেখে রুমাল তুলতেই যেন চোখে পানি আসে।’ বিরোধী দলে থাকার সময় শেখ হাসিনার এমন প্রস্তুতির বর্ণনা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর লেখা ‘আমার ফাঁসি চাই’ বইয়ে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বইটির সেই অংশ আদালতে উল্লেখ করেছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে টানা পাঁচদিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যুক্তিতর্কের পঞ্চম দিনে জাহানারা ইমাম এবং লাশ দেখতে গিয়ে রুমালে গ্লিসারিন লাগানোর প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন তিনি।
বইটির ৭১ নম্বর পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি টেনে প্রসিকিউটর জানান, এক সময় শেখ হাসিনা মেয়র মোহাম্মদ হানিফের খোঁজখবর না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরে জানা যায়, সেদিন বিকেলে লালবাগে বিএনপির পরাজিত কমিশনার প্রার্থী আবদুল আজিজের গুলিতে সাতজন নিহত হন। ঘটনার কথা জানালে শেখ হাসিনা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পরদিন সকালে নিহতদের লাশ দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতিতে রেন্টুর বই অনুযায়ী ‘গ্লিসারিন মাখা রুমালের’ প্রসঙ্গটি সামনে আসে।
হাসপাতালে লাশ দেখার সময় হাতে রুমাল রাখতেই সংবাদকর্মীরা অনেক ছবি তোলেন। গাড়িতে উঠার পর চালক জানালে যে আশেপাশে আর কোনো ফটোসাংবাদিক নেই, তখন শেখ হাসিনা রুমাল নামান, রেন্টুর বইয়ে এমন বর্ণনাও উল্লেখ রয়েছে।
বইটিতে আরও বলা হয়, লাশ দেখে ফেরার পর শেখ হাসিনা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাবার গ্রহণ করতেন, এবং সেদিনও তিনি ‘জিন্দেগি জিন্দেগি’ গান গেয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে বেশি খাবার খান।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। বেলা ১১টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় পড়া শুরু করবে বলে জানিয়েছে রেজিস্ট্রার কার্যালয়।
এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। এরপর ৯ কার্যদিনে প্রসিকিউশন এবং স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। গত ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্যের পর রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য সময় দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। মামুনের খালাস দাবি করেছেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের দাবি, হাসিনা ও কামালও খালাস পাবেন বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।