প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৯ AM

সংগৃহীত ছবি
ভয়াবহ খরায় বিপর্যস্ত ইরানের মানুষ শেষ পর্যন্ত সামান্য হলেও স্বস্তির ইঙ্গিত পাচ্ছেন। কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঘটাতে দেশটির সরকার ক্লাউড সিডিং বা মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টিসৃষ্টির প্রযুক্তি প্রয়োগ শুরু করেছে। এ উদ্দেশ্যে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি অঞ্চলে ইতোমধ্যে বৃষ্টিও নেমেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো উরমিয়া লেক উপত্যকায় একটি ক্লাউড সিডিং ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এ হ্রদ দীর্ঘদিনের খরায় শুকিয়ে বিশাল লবণাক্ত সমতলে পরিণত হয়েছে। পূর্ব আজারবাইজান ও পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশেও একই ধরনের কার্যক্রম চালানো হবে।
ইরনা আরও জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের ইলাম, কেরমানশাহ, কুর্দিস্তান ও লোরেস্তানসহ উত্তর-পশ্চিমের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে সম্প্রতি বৃষ্টি হয়েছে। তবে আবহাওয়া সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় এ বৃষ্টিপাত প্রায় ৮৯ শতাংশ কম।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও তেহরানের আলবোরজ পর্বতশ্রেণির তোচাল পাহাড় ও স্কি রিসোর্টেও চলতি বছর প্রথমবারের মতো তুষারপাত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড বা লবণের মতো কণিকা মেঘের ভেতরে ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। গত বছর ইরান দাবি করেছিল, তারা নিজেরাই এই প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছে।
শুষ্ক জলবায়ুর দেশ ইরান বহুবছর ধরেই খরা ও তাপপ্রবাহে ভুগছে। যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেহরান শহরে বৃষ্টিপাত শত বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশের অর্ধেক প্রদেশে কয়েক মাস ধরে এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। বেশ কয়েকটি প্রদেশের জলাধারগুলোতেও পানি কমেছে রেকর্ড পরিমাণে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করেছিলেন, শীতের আগেই বৃষ্টি না হলে তেহরানের বাসিন্দাদের স্থানান্তর করতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্য একটি দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও এ ধরনের কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
সূত্র: আরব নিউজ, বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ