প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২০ পিএম

পাবনায় শুঁটকি উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জেলার অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে শুঁটকি উৎপাদন। বিশেষ করে চলনবিল, গাজনার বিল, ঘুঘুদহ বিলসহ অন্যান্য বিল ও নদ-নদী থেকে দেশি মাছের ওপর ভিত্তি করে এই শিল্প গড়ে উঠেছে।
পাবনা জেলার সাথিয়া বেড়া সুজানগর চাটমোহর এবং ফরিদপুর উপজেলা শুঁটকি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই অঞ্চলগুলোয় বিল ও নদীর পাড়ে শুঁটকির অস্থায়ী চাতাল বা খোলা গড়ে ওঠেছে । শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের মূল মৌসুম হলো নভেম্বর ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু করে মার্চ মাস পর্যন্ত তখন বর্ষার শেষে বিলের পানি কমে যায় এবং মাছ শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের তাপ পাওয়া যায়।
স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলেরা বিল ও নদ-নদী থেকে পুঁটি, খলসে, টেংরা, টাকি, চিংড়ি, শোল, বাইম, বোয়াল, বাতাসী, কই, মাগুর ইত্যাদি দেশি প্রজাতির ছোট মাছ ধরে সংগৃহীত মাছের ভেতরের বর্জ্য ফেলে পরিষ্কার করে জাল দিয়ে মাছ ভালো ভাবে ধুয়ে এরপর বাঁশের তৈরি মাচাং বা চাটাই চাতাল অথবা খোলার ওপর মাছগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কড়া রোদে শুকানো হয়। রোদে শুকিয়ে সেই শুঁটকি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
শুঁটকি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন, চলন বিলের মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে শুঁটকি তৈরি করে সৈয়দপুর, ভাঙা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরকম প্রণোদনা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিপক কুমার পাল স্বদেশ প্রতিদিন কে বলেন, এবছর জেলায় শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫০ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যেই ৩০ জন শুঁটকি ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তবে কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই।
অনেক সময় উৎপাদন খরচ অনুযায়ী বাজার মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের ঝুঁকি থেকে যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস