বর্তমান বিশ্বে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পেশাজীবী, চাকরিপ্রার্থী ও কাজের উন্নতি প্রত্যাশী সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নত যোগাযোগ দক্ষতা, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ইংরেজি শেখা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আধুনিক যুগে ইংরেজি শেখার বিভিন্ন ধরনের কোর্স প্রচলিত রয়েছে, যার প্রতিটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আলাদা। এখানে জনপ্রিয় ও কার্যকর কিছু ইংরেজি শেখার কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. বেসিক ইংরেজি কোর্সযাদের ইংরেজি নিয়ে মৌলিক ধারণা কম, তাদের জন্য এই কোর্সটি অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণত এই কোর্সে বর্ণমালা, উচ্চারণ, শব্দ গঠন, সাধারণ বাক্য, কর্তা-ক্রিয়া-কর্মের মিল, দৈনন্দিন কথোপকথন, সংখ্যা, সময়, তারিখ, রঙ, পরিচিতি- এসব শেখানো হয়। শিক্ষার্থীরা শিখে কিভাবে নিজেদের পরিচয় দিতে হয়, সহজ বাক্যে যোগাযোগ করতে হয় এবং সাধারণ তথ্য আদান-প্রদান করতে হয়।
এই কোর্স শেষে শিক্ষার্থী ইংরেজিতে একটি ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়, যা পরবর্তী উচ্চতর কোর্সগুলো সহজে বুঝতে সাহায্য করে।
২. অ্যাডভান্স ইংরেজি কোর্সবেসিক ধারণা অর্জনের পর যারা সাবলীলভাবে ইংরেজিতে কথা বলা, লেখা ও শুনতে চায়, তাদের জন্য এই কোর্স। এখানে মূলত উন্নত শব্দভান্ডার, জটিল বাক্য গঠন, বিভিন্ন রকম বাক্যধারা (Sentence patterns), প্রবন্ধ লেখা, অফিসিয়াল ইমেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন স্কিল এবং ফরমাল কমিউনিকেশন শেখানো হয়।
শিক্ষার্থীরা জটিল বা পেশাগত আলোচনায় অংশ নিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এছাড়া কর্পোরেট বা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যে ধরনের ইংরেজি প্রয়োজন, তার ওপর বিশেষ অনুশীলনও থাকে।
৩. বিজনেস ইংরেজি কোর্সঅফিস-আদালত, ব্যবসায়িক মিটিং, প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট হ্যান্ডলিং এবং পেশাগত যোগাযোগে যে ধরনের ইংরেজি ব্যবহৃত হয়, তাকে বিজনেস ইংরেজি বলা হয়। এই কোর্সের মাধ্যমে শেখানো হয়-
প্রফেশনাল ইমেইল লেখা
রিপোর্ট রাইটিং
ব্যবসায়িক লেটার
মিটিং কন্ডাক্ট করা
প্রেজেন্টেশন তৈরি ও উপস্থাপন
কর্পোরেট টার্মিনোলজি
এগুলো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন সাহায্য করে, কর্মক্ষেত্রে উন্নতিতে তেমনি সহায়ক।
৪. অ্যাকাডেমিক ইংরেজি কোর্সবিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষায় (বিশেষত বিদেশে) পড়াশোনার জন্য যে ইংরেজি দরকার, তাকে অ্যাকাডেমিক ইংরেজি বলা হয়। এই কোর্সে শেখানো হয়ঃ
প্রবন্ধ (Essay) লেখা
রিসার্চ পেপারের ভাষা
রিডিং কমপ্রিহেনশন
নোট নেওয়া
স্কলারলি ভোকাবুলারি
টেক্সট বিশ্লেষণ ও সারসংক্ষেপ, এটি মূলত উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি কোর্স।
৫. আইইএলটিএস (IELTS) ও টোফেল (TOEFL) প্রস্তুতি কোর্সবিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ইমিগ্রেশনের জন্য আইইএলটিএস ও টোফেল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এগুলো ইংরেজি দক্ষতার আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণ করে। এই কোর্সে শেখানো হয়ঃ
Listening স্কিল
Reading স্কিল
Writing স্কিল
Speaking স্কিল
সাথে থাকে মক টেস্ট, মডেল প্রশ্ন, বিভিন্ন কৌশল এবং স্কোর বাড়ানোর টেকনিক। বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আইইএলটিএস/টোফেল স্কোর গ্রহণযোগ্য।
৬. অনলাইন ইংরেজি কোর্সবর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইংরেজি শেখা জনপ্রিয় হয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্ল্যাটফর্মগুলো-
Duolingo
Coursera
Udemy
edX
British Council
এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইংরেজি শেখার জন্য নানা ধরনের কোর্স পাওয়া যায়- শুরু থেকে অ্যাডভান্স, বিজনেস ইংলিশ থেকে উচ্চারণ প্রশিক্ষণ পর্যন্ত। ভিডিও ক্লাস, কুইজ, লাইভ ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, সার্টিফিকেট- সবকিছুই অনলাইনেই পাওয়া যায়। সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতা না থাকায় যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থী এগুলো থেকে উপকৃত হয়।
পরিশেষ বলা যায়, ইংরেজি শেখা এখন আর কেবল একটি ভাষা শেখা নয়; এটি ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে নিজেকে যোগ্য করে তোলার অন্যতম হাতিয়ার। নিজের প্রয়োজন- পড়াশোনা, চাকরি, বিদেশে যাওয়া বা ব্যক্তিগত উন্নতি- যেটাই হোক না কেন, উপযুক্ত কোর্স বেছে নিলে ইংরেজি শেখা সহজ, আনন্দদায়ক এবং ফলপ্রসূ হয়।
নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রত্যেকেই সহজেই ইংরেজিতে দক্ষ হতে পারে।
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি