
কাদিয়ানীদের (আহমদিয়া সম্প্রদায়) রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ।
১. এখন কাদিয়ানিরা মুসলমান হিসেবে মুহাম্মদ (সঃ) কে নবী মানলেন না, মসজিদে ইবাদত করলেন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগালেন- আপনি কী বলবেন? এটা মুসলমান করেছেন নাকি অমুসলিম?
২. তাদের কার্যক্রমে বাধা দেয়ার কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে অমুসলিম ঘোষণার কথা। কারণ, তাঁদের কার্যক্রমে যেনো মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। সাধারণ মানুষ যেনো তাঁদের কার্যক্রমকে ইসলাম মনে না করেন।
৩. এখন মুসলমান হিসেবে একজনকে কনভিন্স / পথভ্রষ্ট করতে যতোটা সহজ হচ্ছে তখন তার চেয়ে কঠিন হবে। কারণ, সাধারণ মানুষ জানবেন- অমুসলিম নয় এমন ব্যক্তির ইসলাম সম্পর্কিত কথায় সতর্ক থাকতে হবে।
৪. মুহাম্মদ (সঃ) -কে নবী হিসেবে বিশ্বাস না করলে তিনি মুসলমান থাকেন না। তাহলে রাষ্ট্রকে কেনো বলা হচ্ছে- আপনি তাঁদের অমুসলিম ঘোষণা করুন? কারণ, রাষ্ট্র দায়িত্ব নিলে সংঘাত হবে না আর মুসলমান এবং মুসলমান নামে ইনটেনশনালি ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধকারী মুখোমুখি হলে রক্তপাত ও সংঘাত বাড়বে। ফলে, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ হবে।
৫. রাষ্ট্র তার এবং তার জনগণের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
৬. আলেম সমাজ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৈষ্ণব কিংবা প্রকৃতি পূজারীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে বলেননি কেনো? তাঁরা কি মুসলমান? তাহলে কাদিয়ানীদের বলছে কেনো? ভাবুন, ভাবুন, ভাবা প্রাকটিস করুন।
৭. আপনার বউ নয় কিন্তু আপনার বউ দাবি করছে। তথ্য প্রমাণে মিথ্যা দাবি হওয়ায় আদালত কি বলতে পারবে না- ওটা আপনার বউ নয়? নাকি আপনার বউ দাবি করে যা যা করবে তার দায় আপনি নেবেন? মহোদয়, সখিনা কাজলের বউ স্পষ্ট, মর্জিনা বাদলের বউ স্পষ্ট, জরিনা আপনার বউ দাবি করছে কিন্তু স্পষ্ট নয়। আদালতে ডিফাইন হওয়ার দরকার আছে কিনা?
৮. খ্রিস্টানদের দরকার নেই- মুসলমানরা খ্রিস্টান নয় এটা ডিফাইন করার। কারণ, এটা স্পষ্ট যে, মুসলমানরা খ্রিস্টান নয়। এখন একজন যদি প্রচার করে ইসা মসীহ (আঃ) কে বিশ্বাস করি না, নবী বা মহামানব হিসেবে উইলিয়াম ইকালুসকে বিশ্বাস করি, তাহলে ডিফাইন করার প্রয়োজন আছে যে, সে খ্রিস্টান নয়। কারণ অন্যরা তাঁর কর্মকাণ্ডকে মনে করবে- এটাই খ্রিস্টানিটি।
৯. এখন কাদিয়ানিদের ধর্মের নাম যদি হয়- (ক), ধর্ম প্রচারকের নাম যদি হয়- (খ), ধর্মগ্রন্থের নাম যদি হয়- 'গ', উপাসনালয়ের নাম যদি হয়- (ঘ), তাহলে কি কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো- পটেটোর প্যাকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে যখন সেটাকে পটেটো বলে প্রচার এবং বিক্রি করবেন তখন।
১০. গোলাম আহমেদ কাদিয়ানির যখন বয়স ১৬/১৭, তখন তিনি (১৮৫৭ সাল) ভারতের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে ইংরেজদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। নিজেকে শেষ নবী দাবি করেছেন। এটা দীর্ঘকাল চলার পর, তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি নবী নন, ইমাম মাহাদি! সমস্যা হলো- নবী দাবি করা কাউকে আপনি ইমাম মাহাদি মানবেন কিনা?
১১. পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আপনি (মোহাম্মদ (সঃ) শেষ নবী। পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে- আমি (মোহাম্মদ (সঃ)) শেষ নবী। হাদিসে আরও উল্লেখ আছে যে, আমার পর প্রায় ৩০ জন নিজেকে শেষ নবী দাবি করবে, এরা ভণ্ড এবং মিথ্যাবাদী। এখন, কাদিয়ানিদের মুসলমান রাখতে হলে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসকে মিথ্যা বলতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর