প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ পিএম

খাদেমুল ইসলাম
কে মুসলমান আর কে কাফের, এটা নির্ধারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রের নাই। কারণ মুসলিম ও অমুসলিমের বৈশিষ্ট্য পবিত্র কুরআনেই আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটা আসলে ঘোষণার বিষয় নয়, চর্চার বিষয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের বিশ্বাস সমূহের মধ্যে একটা রেফারির ভূমিকা পালন করবে। তাই রেফারি কারও পক্ষে গোল দিলে সেটা আর খেলা থাকে না। দেখা গেলো আগামীকাল যদি অন্য একটি গ্রুপকে কাফের ঘোষণার দাবি উঠে তখন রাষ্ট্র কি করবে?
এক্ষেত্রে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর একটি ঘটনা প্রনিধানযোগ্য। পাকিস্তানে ওই সময় কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার একটি দাবি জোরালোভাবে ওঠে। তখন পাকিস্তান সরকার একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে একটা কমিশন গঠন করে। যাদের দায়িত্ব ছিল, কত শতাংশ মুসলমান কাদিয়ানীদের অমুসলিম মনে করে সেই বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া।
ওই কমিশন পরে রিপোর্টে উল্লেখ করে, পাকিস্তানে কোনো মুসলমান নাই। এর ব্যাখ্যায় বলে, তারা বিভিন্ন মাযহাব ও ফেরকার আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যাদের প্রত্যেক গ্রুপ বিভিন্ন গ্রুপকে কাফের বলে আখ্যা দিয়েছেন। সবার সঙ্গে কথা বলার পর এমন একটা গ্রুপও পাওয়া যায়নি যাদের অন্তত একবার হলেও কাফের ডাকা হয়নি। তাই পাকিস্তানে প্রকৃতপক্ষে কোনো মুসলমান নাই। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি যে তার চেয়ে খুব বেশি ভালো তা বলা যাবে না।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও আইনজীবী
(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)