
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুন্নবীর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি কুচক্রী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শঙ্খ নদীর জুইদন্ডী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী বাজার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন বাঁশখালী উপজেলার ঠিকাদার লোকমান মাস্টার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিও ব্যাগ স্থাপনের সময় ঠিকাদারের শ্রমিকরা প্রতি ব্যাগে ২৫০ কেজির পরিবর্তে ১৫০–২০০ কেজি বালু ভরছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি সদস্য নুরুন্নবী অনিয়মের প্রতিবাদ করেন এবং নিয়ম মেনে ব্যাগ ভর্তি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে একটি পক্ষ উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই অনিয়মে সহযোগিতার অপপ্রচার শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৫০) বলেন, “বেড়িবাঁধ ভাঙনের পর ইউপি সদস্য নুরুন্নবীর উদ্যোগেই পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তিনি সরাসরি কোনো আর্থিক বা কার্যসম্পৃক্ততা রাখেননি।”
শ্রমিকদের মাঝি তালিমুল ইসলাম জানান, “কিছু ব্যাগে ভুলবশত কম বালু ভরা হয়েছিল, পরে পাউবোর কর্মকর্তারা এসে তা ঠিক করে দেন। মেম্বার নুরুন্নবীর এতে কোনো ভূমিকা ছিল না।”
ঠিকাদার লোকমান মাস্টার বলেন, “এই প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ নেই। পাউবোর কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। ইউপি সদস্য নুরুন্নবী শুধু শ্রমিকদের থাকার জায়গা নিয়ে সহযোগিতা করেছেন।”
অপপ্রচারের বিষয়ে ইউপি সদস্য নুরুন্নবী বলেন, “ঠিকাদারের শ্রমিকদের থাকার জায়গা দিতে বলেছিলেন—এ ছাড়া কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমি কম বালু ভরার প্রতিবাদ করেছি। একটি কুচক্রী মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “বালু কম ভরার সুযোগ নেই, কারণ আমরা নিয়মিত পরিমাপ করি। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলেন, অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর যেভাবে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করার চেষ্টা থাকতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে