প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৮ পিএম আপডেট: ১০.১১.২০২৫ ৩:৫২ PM

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ‘প্রাকৃতিক গ্যাসের নগরী’ হিসেবে পরিচিত। অথচ প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন সত্ত্বেও, এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এখনও গ্যাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মুরাদনগরের হাজার হাজার পরিবার রান্নার জন্য লাকড়ি, খড় ও সিলিন্ডার গ্যাসের উপর নির্ভর করতে বাধ্য।
মুরাদনগরে অবস্থিত বাখরাবাদ, বাঙ্গরা এবং শ্রীকাইল-৩ (মুকলিশপুর) গ্যাস ফিল্ড থেকে দৈনিক প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড একাই প্রতিদিন ৩০-৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে, শ্রীকাইল থেকে ২০-২৫ মিলিয়ন এবং বাঙ্গরা থেকে প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এই গ্যাসের ব্যবহার মূলত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতে হচ্ছে।
মুরাদনগরের ২২টি ইউনিয়ন ও ৩০৮টি গ্রামের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার গ্রাহক আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহার করছেন। এটি মোট পরিবারের মাত্র ১০ শতাংশ। মুরাদনগর সদর ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে গ্যাস সংযোগ প্রায় নগণ্য। গ্যাস না থাকায় বহুতল ভবনের মালিকরাও রান্নার জন্য চরম দুর্ভোগের শিকার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, “এতো সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছি না।” ২০১৪ সালে “আমাদের গ্যাস, আমাদের অধিকার” শীর্ষক দাবিতে এলাকার লক্ষাধিক মানুষের স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলেও, এক যুগ পার হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয়দের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত আহমেদ মীর বলেন, “মুরাদনগরে উত্তোলিত গ্যাস দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা বঞ্চিত। আমাদের এলাকায় উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া আমাদের মৌলিক দাবি। সরকার উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।”
বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের ডিজিএম মো. আব্দুর রফিক প্রমাণিক বলেন, “গ্যাস উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা আমাদের কাজ। গ্যাস বিপণন বা সংযোগ দেওয়ার দায়িত্ব গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির।”
তবে, সরকার বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিক সংযোগ বন্ধ রেখেছে। জাতীয় নীতির কারণে স্থানীয় চাহিদা পূরণের চেয়ে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা অগ্রাধিকার পায়। এর ফলে মুরাদনগরবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী বঞ্চনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত গ্যাস সংযোগ না দিলে এলাকার মানুষের গ্যাস পাওয়ার অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে