| শিরোনাম: |

ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেই দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় ট্রেন সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন—ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি মিতালী এক্সপ্রেস।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জাগো নিউজকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেই ট্রেন সেবা পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে বলছে, নিরাপত্তার চেয়ে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা ট্রেন চলাচল শুরুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে। এখন পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। আমরা মনে করি না, নিরাপত্তা সংকট রয়েছে; বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।”
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে এর আগে দুই দফায় ভারতকে চিঠি পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরবর্তীতে গত ৬ অক্টোবর রেল মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আইজিআরএম প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে পুনরায় চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার আলোচনায় পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তাব, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালুর অনুমোদন এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল বহনের জন্য লাগেজ ভ্যান সংযুক্ত করার উদ্যোগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি খুলনা স্টেশনে বন্ধন এক্সপ্রেসের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও বিশেষ ভিসা প্রদানের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টারগুলো পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না, তবে চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে ভিসা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের কয়েকটি ঘটনা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তবে মনে করছেন, ভারত নিরাপত্তার কথা বললেও আসল কারণ রাজনৈতিক। যদিও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল এবং জরুরি ভিসার মাধ্যমে সীমিত যাত্রী যাতায়াত এখনো চালু রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ