বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      এনসিপি নেতাদের গণধোলাই দিতে হবে: এমদাদ চৌধুরী      ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি      ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ৩      বিগত সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট হয়েছে : ড. এম এ কাইয়ুম      আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী       নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট নয়, জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচন: ইসি      বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম      ‘বাকেরের ফাঁসি’ ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছিল মানুষ      মানুষ ও প্রাণীর নীরব বন্ধনের গল্প ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’-এ      শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, দায়িত্বশীল হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার      
‘আমরণ অনশন’ করা কি ইসলামে বৈধ?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৫ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সমাজে কোনো দাবি আদায় বা অবিরাম অনুশাসন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে অনশন, বিশেষ করে ‘আমরণ অনশন’, একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন আন্দোলন বা ধর্মীয়-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনশনকে অনেক সময় প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও দেখা হয়। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও খাবার পরিহার করে মৃত্যু বরণ করা কি গ্রহণযোগ্য? এটি কি আত্মহত্যার সমতুল্য, নাকি ভিন্নভাবে বিবেচিত? নিচে সংশ্লিষ্ট কোরআনের আয়াত, হাদিস ও ফিকহি মতামতের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো।

ইসলাম কী বলে: মূল নীতিমালা

১. জীবন অনন্য ও আল্লাহর আয়ত্তে, মানুষের জীবন তার নিজের মালিকানায় নেই; জীবন ও মৃত্যু নির্ধারক কেবল মহান আল্লাহ। ইসলাম মানুষের জীবনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং জীবনবিমুখ কার্যকলাপ সার্বিকভাবে নিষেধ করে।
 
২. আত্মহত্যা হারাম, কোরআন ও হাদিসে আত্মহত্যা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। কোরআন সেইসব আয়াতের মাধ্যমে আত্মধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে আদেশ করে এবং নবী সর্বশ্রেষ্ঠ (সা.)-এর অর্জিত হাদিসগুলোও আত্মহত্যার কঠোর নিন্দা ঘোষণা করে। ঐতিহ্যগতভাবে আলেমরা আত্মহত্যাকে এক গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
 
অনশন-সম্পর্কিত ফিকহী মনোভাব ও সাক্ষ্যসমূহ
 
একাধিক শরীয়তী গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে অভিযোাগ-দাবি পূরণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার ছাড়াই মারা যাওয়া আত্মহত্যার একটি রূপ, এবং এটি গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য। প্রখ্যাত মুফাসসির ও ফিকহ পণ্ডিতদের মধ্যে সাধারণ মত হলো, যদি কারো কাছে খাদ্য ছিল বা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকলে তা ইচ্ছাকৃতভাবে না নিয়ে মৃত্যু বরণ করা পাপ ও আত্মহত্যার স্বরূপ।
  
আত্মহত্যাকে উদাহরণ দেখিয়ে বলা হয়, যে ব্যক্তি নিজেকে হত্যা করবে তার জন্য শাস্তি রয়েছে; তবে অনেক আলেমের ব্যাখ্যায়, যার পেছনে অনর্থক অমানবিক দুঃশক্তি বা সংকট থেকে অনাহুত দুর্বলতা (শিশু মানসিকতা, চরম মানসিক কষ্ট) কাজ করে—সে সম্পূর্ণভাবে ‘স্থায়ী জাহান্নামি’ হিসেবে স্থগিত নয়; আল্লাহ’র রহমত ও ন্যায় বিচারে পর্যবেক্ষণ থাকবে।
 
অনশন বনাম ধর্মঘট: কোনগুলো গ্রহণযোগ্য?
 
সামান্য বা সাময়িক অনশন/ধর্মঘট, যদি উদ্দেশ্য ন্যায্য এবং অনশনের ফলে প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তখন তা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত ও নিরাপদভাবে করা হলে প্রতিবাদ বা ধর্মঘট আয়োজিত হতে পারে।
 
আমরণ অনশন (জীবনের ঝুঁকি), কোন দাবির জন্য প্রাণহানির আশঙ্কা যুক্ত করে দীর্ঘদিন অনশন চালিয়ে মারা যাওয়া ইসলামী নীতির বিপরীত। এমন অনশনকে ইসলাম অনুমোদন করে না; কারণ এটি নিজের প্রাণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা এবং আত্মহত্যার সঙ্গতিসহ পাপিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত হলে করণীয়, অনশনরত ব্যক্তি বা আশপাশের লোকদের উচিত অনশন ভাঙার জন্য তৎকাল ব্যবস্থা করা; জীবন রক্ষা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়। যদি অনশনরত ব্যক্তি তখনও খাদ্য গ্রহণ না করে এবং মৃত্যু ঘটে, ঐতিহ্যগত ফিকহ অনুযায়ী তা আত্মহত্যার পর্যায়ে গণ্য হতে পারে।
 
কেন ইসলাম এ বিষয়ে কঠোর?
 
জীবনের মর্যাদা: জীবনকে আল্লাহ প্রদান করেছেন; তাই নিজে থেকেই জীবনবিমুখ হওয়া ধর্ম-বিরুদ্ধ। দুনিয়া-অসুখ বনাম পরকালের গম্ভীরতা: সাময়িক বা আন্তরিক দাবির জন্য অনুকরণীয় ক্ষতি হলে পরকালে তার গুরুতর বাস্তব শাস্তির সম্ভাবনা বিবেচ্য।
 
সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব: প্রত্যেক মুসলিমের দায় দায়বদ্ধতার মধ্যে তার নিজ জীবনের রক্ষাও অন্তর্ভুক্ত; নিজের মৃত্যু দিয়ে অন্যদের সতর্ক করা বা চাপ তৈরি করা ইসলামের নৈতিক কাঠামোর বিপরীতে যায়।
 
আমরণ অনশন, ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়; যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে না খেয়ে মারা যায়, ঐতিহ্যগত ফিকহ অনুযায়ী সেটি আত্মহত্যার ঝুঁকিতে পড়ে এবং গুরুতর দণ্ড-পরিণতি হতে পারে।সাময়িক/সুরক্ষিত অনশন বা ধর্মঘট, যদি প্রাণহানির সম্ভাবনা না থাকে, শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য; তবুও শরীয়ত এবং সাধু-আদব মেনে চলা আবশ্যক।
 
চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা, অনশন বা আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা পাওয়াভাব জরুরি; সম্প্রদায়ের সমর্থন ও পেছনের লোকদের সতর্কতা প্রয়োজন।ধর্মীয় দায়িত্ব, প্রতিটি মুসলিমের উচিত জীবনের মর্যাদা ব্যতীত কোনো কারণে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা।

ইসলাম মানুষকে জীবনের গুরুত্ব ও পরকালের জবাবদিহিতাকে সামনে রেখে সচেতনভাবে আচরণে অভ্যস্ত করে। কোনো ন্যায্য দাবির জন্য হলেও নিজের প্রাণকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলা—বিশেষ করে অনশন করে মৃত্যুবরণ—ইসলামী নীতির পরিপন্থী। প্রতিবাদ করতে হলে তা এমনভাবে করা উচিত, যাতে জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে; কারণ জীবন রক্ষা করা ইসলামে শুধু ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।

স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ 




আরও সংবাদ   বিষয়:  আমরণ অনশন   ইসলাম   বৈধ  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close