প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:২৮ পিএম

গত ৩ নভেম্বর নাটোরের তিনটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও সিংড়া আসনের মনোনয়ন না হওয়ায় নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দিতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশে নেমেছেন বিএনপির দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী।
শনিবার (৮ নভেম্বর) ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিংড়া কোর্ট মাঠ চত্বরে বিশাল জনসমাবেশ করেন নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু। পরদিন রোববার একই মাঠে পাল্টা সমাবেশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। এ দুটি সমাবেশকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
নাটোর-৩ আসনটি সিংড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত, যেখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২২ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ আসনে রাজনৈতিক সরবতা বাড়ছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন মোট পাঁচজন দাউদার মাহমুদ, অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু, সাবেক এমপি কাজী গোলাম মোর্শেদ, ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী এবং ডা. নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে দাউদার মাহমুদ ও আনু মাঠে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়, একের পর এক সমাবেশ, গণসংযোগ ও তৃণমূল বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা তুলে ধরছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় এবং সম্ভাব্য জোটগত সমীকরণ বিবেচনায় কেন্দ্র এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। স্থানীয় পরিস্থিতি, গণসমর্থন ও সংগঠনের ভারসাম্য দেখে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দাউদার মাহমুদ বলেন, “বিএনপি করতে গিয়ে বহুবার কারাগারে গিয়েছি, হামলা-মামলায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ত্যাগ আমি করেছি, যারা এখন মনোনয়ন চাইছেন, তাদের অবদান কী? বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেন তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন এটাই প্রত্যাশা।”
অন্যদিকে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, “সিংড়া আসনে আমি ছাড়া এখন আর কোনো সিনিয়র নেতা নেই। তারেক রহমান নিজে ফোনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমি ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছি এবং মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি। সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে। তবে একাধিক প্রার্থী ও স্থানীয় সমীকরণে দলীয় সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস