বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আবেগ-ভালোবাসা এবং দীর্ঘশ্বাসের একটি দল। প্রাপ্তির খাতা শূন্য হলেও বেশকিছু কালো অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছে দেশের ক্রিকেট।
সম্প্রতি প্রায় ২০ কোটি মানুষের ভালোবাসার এই দলটি পা রাখতে চলেছে তিন দশকে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ট্রফি তো দূরের কথা, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি বাংলাদেশ দল।
বাংলাদেশের পরে ক্রিকেট অঙ্গণে পা রাখা দল আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকেই উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক না! তাদের ডেডিকেশন কিংবা পারফরমেন্সে কোনো অংশেই কি তাদের যোগ্যতায় আঙ্গুল তোলা যায়? কিন্তু মীরপুর ছাড়া টাইগারদের বিদেশের মাটিতে যে কোনো পারফরমেন্সেই আঙ্গুল তোলার সুযোগ পাচ্ছেন নেটিজেনরা। আসলে সমস্যাটি ঠিক কোথায় বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের? কোচ, প্লোয়ার, প্লে গ্রাউন্ড নাকি অর্থ? চলুন জেনে নেয়া যাক অতীত থেকে বর্তমান।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের কালো অধ্যায়ের করুণ ইতিহাস আশরাফুলের ফিক্সিং কাণ্ড (২০১৪)ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে ২০০১ সালে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ান মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ বলে ফিফটি করে চমক দেখিয়েছিলেন তিনি।
এরপর থেকেই ওপেনিংয়ে অটোচয়েজ হিসেবে পরিচিত করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে যাত্রা শুরু হয় বিপিএলের। প্রথম দুই আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করতে দুই আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন আশরাফুল। কিন্তু ২০১৩ সালের বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়ান আশরাফুল।
ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করে বিতর্কিত সাকিব (২০১৯) জিম্বাবুয়ের হারারেতে ২০০৬ সালে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ান সাকিব আল হাসান। সময়ের সাথে সাথে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে ব্রান্ড হিসেবে তৈরি করেন তিনি। এ ছাড়াও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি হিসেবে তিন ফরম্যাটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হন তিনি।
সম্প্রতি আইপিএলে মোস্তাফিজকে দেখা গেলেও দেশের ইতিহাসের আইপিএলে নিয়মিত পারফরম করা ক্রিকেটার সাকিব। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খেলেছেন তিনি। কলকাতার হয়ে দুটি শিরোপা জয়ে অবদানও রয়েছে এই বিশ্বসেরা তারকার।
অর্জনের পাশাপাশি বিতর্কের পাল্লাও ভারি সাকিবের। পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে সময় পারফরম্যান্স দিয়ে তা আড়াল করেছেন। তবে ২০১৯ সালটা ছিল সাকিবের জন্য সবচেয়ে কষ্টের বছর।
২০১৮ সালের আইপিএলে জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য গোপন করায় সাকিব আল হাসানকে ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। কিন্তু দোষ স্বীকার করায় শাস্তি কমিয়ে ১ বছর করা হয়।
কারণ, দেশের সর্বকালের সেরা ক্রীড়বিদ খ্যাতি পাওয়া সাকিব আল হাসানকে নিষিদ্ধ করার বিষয় মেনে নেওয়া সহজ ছিল না ক্রিকেট ভক্তদের জন্য। তবে এই ঘটনা সাকিবকে থামিয়ে দিতে পারেননি। ফিরে এসে আবারো নিজের সিংহাসন বুঝে নিয়েছিলেন তিনি।
স্ট্যাম্পে সাকিবের লাথি ও উপড়ে ফেলা (২০২১)এরপর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২০ সালে মাঠে ফেরার এক বছর পূরণ না হতেই আবারো আলোচনায় আসেন সাকিব আল হাসান। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং। একটি এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার ইমরান পারভেজের কাছ থেকে সাড়া পাননি সাকিব। আর তাদের তাতেই হারিয়ে বসলেন মেজাজ। বিতণ্ডায় জড়ালেন, লাথি দিয়ে ভাঙলেন স্টাম্প।
ঘটনাটা আবাহনী ইনিংসের পঞ্চম ওভারে। মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে নিজের বোলিংয়ে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙেন সাকিব। এই ঘটনার পরও থেকে থাকেননি সাকিব। পরের ওভারেই শুভাগত হোমের বোলিংয়ের সময় বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দিলে সাকিব আবার নিজের হাতে স্টাম্প উপড়ে ফেলেন।
যাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ক্রিকেটের পেশাদায়িত্ব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ ছাড়াও সাকিবকের শাস্তি নিশ্চিত করতে সময় ক্ষেপণ করেনি সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা। এই ঘটনায় শাস্তি পান সাকিব।
জাহানারা ইস্যুতে ফেসবুকে মনজুরুলের লিখা....
বাংলাদেশের প্রথম পোস্টারবয় হিসেবে
পরিচিতি পাওয়ার আপেক্ষায় ছিলেন আশরাফুল। যাকে দেখে তরুণটা স্বপ্ন দেখতো
ক্রিকেটার হওয়ার, তার মতো একজন ক্রিকেটার ফিক্সিংয়ে জড়িত। যা সেটা সহজ
মানতে পারেনি কেউই।
প্রথমে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আট বছরের জন্য। এর
মধ্যে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা তিন বছরের। আপিলের পর শাস্তিটা কমে হলো দুই বছরের
স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ পাঁচ বছর। সে সময় তার জড়িত তিন সাবেক ক্রিকেটারের
নামও বলেছিলেন আশরাফুল। তারা বেঁচে গেলেও শাস্তি ভোগ করেন টাইগার ওপেনার।
ওই ঘটনার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি আশরাফুল।
জাহানারার যৌন হয়রানির অভিযোগ (২০২৫)বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা জানান, জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদ তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। এসব বিষয়ে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সাবেক নির্বাচক মঞ্জুকে নিয়ে তিনি বলেন, “উনি একদিন আমার কাছে আসলেন, আমার কাঁধে হাত রেখে বলছিলেন, তোর পিরিয়ডের কতদিন চলছে। পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে, যখন ডাকবো চলে আসিস।”
এদিকে এই ঘটনায় উত্তপ্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ক্রিকেট ভক্তরা প্রশ্ন রেখে বলছেন এই কি বাংলাদেশি নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা? এইসবের কারনেই কি বাংলাদেশ জাতীয় দলের দিন দিন পিছিয়ে পড়া? আর কি কি ঘটনা রয়েছে তাই এখন সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে ক্রিকেট ভক্তদের।