প্রকাশ: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩২ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় গণিতের অঙ্ক না পারার অপরাধে সহকারী শিক্ষকের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ায় শিশুটি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হাতিয়ার চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। আহত ছাত্রীর নাম মুনতাহা আকতার মীম (১৩)। সে মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম গণিত না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে মীমের পিঠ ও মেরুদণ্ডে নির্মমভাবে আঘাত করেন। এতে সে শ্রেণিকক্ষে অচেতন হয়ে পড়ে যায়। পরে সহপাঠীরা মীমকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মীমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ের অপরাধ সে অংক পারেনি! এজন্য কি তাকে মেরে ফেলতে হবে? সে এখন ঠিকভাবে কথা বলতে পারছে না, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে। আমি আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত চাই।”
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আশ্চর্য জানান, “শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি আছে।”
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কেবল পিঠে একটি থাপ্পড় দিয়েছি। এতে এত বড় কিছু হওয়ার কথা নয়।”
শিক্ষকের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, শিক্ষাঙ্গনে এমন নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ নয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম আজমল হুদা বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে