প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৮ পিএম

দামুড়হুদায় বিলুপ্তির পথে মাটির এসি ঘর
সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। বেশিদিনের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো অনেক মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলেন, গরীবের এসি ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাচাঁর পাশাপাশি প্রচুর গরম ও খুবই শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতায় ছোঁয়া আর কালের আবর্তে দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামগুলি থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।
অতীতে মাটির ঘর গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত ছিল। এ ঘর শীত ও গরম মওসুমে আরামদায়ক তাই আরামের জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবান ও মাটির ঘর তৈরি করেছেন। জানা যায়, এখানে প্রাচীন কাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিনত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-১৫ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড়ের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। সব ঘর বড় মাপের হয় না। গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা একে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মওসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে ইট-সিমেন্টের ঘর নির্মানে এখন উৎসাহী হচ্ছে মানুষ।
এক সময় উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ও অনেক পরিবার মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। তবে প্রবল বর্ষণে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বেশি। ভুমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির ঘর শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়। কিন্তু কালের আবর্তে দালান-কোঠা আর অট্রালিকার কাছে হার মানছে মাটির ঘর।
উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মিশন পল্লিতে পদ্দুত বিশ্বাসের শতবছরের মাটির ঘর এখনো আছে। ঘরমালিক প্রকৃত বিশ্বাস বলেন, আমার দাদা আমাগো এই মাটির ঘর বানাইছে। এহ্যানো এই ঘর ভাঙ্গে নাই। আর এই ঘরে আমরা এখনো বসবাস করে আসছি।
কার্পাসডাঙ্গা মহাবিদ্যালয়ের ইংরাজী প্রভাষক গিয়াস উদ্দীন বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশ মানুষ মাটির ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় অনেক লোকের নিবাসকল্পে ইটের ঘর তৈরি মনোনিবেশ করেছেন মানুষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ