প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
মরণব্যাধির তালিকায় ক্যান্সার অন্যতম। শব্দটি শুনলেই অনেকেই আতঙ্কে ভেঙে পড়েন। বহুদিন ধরে মানুষের ধারণা ছিল—ক্যান্সার মানেই মৃত্যু। একসময় এটাও বিশ্বাস করা হতো যে ক্যান্সারের কোনো সমাধান নেই।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সেই ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন ক্যান্সার আর অজেয় রোগ নয়—অনেক ধরনের ক্যান্সার দ্রুত চিকিৎসা পেলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবন ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, যা ক্যান্সার মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।
এই কিছু দিন আগেই রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্যান্সারের টিকা তৈরি করে ফেলেছেন তারা, যা মারণরোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রয়োগের জন্য তৈরি। রুশ ফেডারেল মেডিকেল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সি এই ঘোষণা করেছে। ইস্টার্ন ইকনমিক ফোরাম-কে নিজেদের সাফল্যের কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ভেরোনিকা স্কভর্ৎসোভা। বিনামূল্যে রোগীদের এই টিকা দেয়া হবে।
সেখান থেকে আরও একধাপ এগিয়ে এবার রুশ বিজ্ঞানীরা আরও বড় সুখবর দিলেন। নতুন ক্যান্সার ভ্যাকসিন ‘এন্টারোমিক্স’ মানবদেহে প্রাথমিক পরীক্ষায় শতভাগ কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা দেখিয়েছে। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে গেছে এবং কারও শরীরে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে- যা করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছিল।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ‘এন্টারোমিক্স’ দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে তা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। এর ফলে প্রচলিত চিকিৎসা যেমন কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের তুলনায় এটি অনেক নিরাপদ ও বুদ্ধিদীপ্ত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে গেছে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সামান্য। ফলে প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের তুলনায় এটি অনেক নিরাপদ বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকেরা আশাবাদী, পরবর্তী ধাপের পরীক্ষাগুলোতেও যদি একই ফলাফল পাওয়া যায়, তবে এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও সমান কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি থামানো, রোগীর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। সফল প্রয়োগ নিশ্চিত হলে এই ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ