প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৪ পিএম আপডেট: ০৬.১১.২০২৫ ৫:১৪ PM

নোয়াখালীর উপকূলীয় সুবর্ণচরে জেলে পেশা ছেড়ে করলা চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন অনেক কৃষক। একসময় যাদের জীবিকা নির্ভর করত মেঘনা নদীর মাছের ওপর, সেই মানুষগুলো এখন সবুজ করলার মাচার নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাসিমুখে। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে করলা চাষ হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষিপণ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার।
মাচায় ঝুলছে সবুজ করলার সারি স্বাদে তেতো হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, করলা চাষ এখন তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
চরজব্বার ইউনিয়নের ইমান আলী বাজার এলাকার করলা চাষি মো. রুহুল আমিন জানান, একসময় তিনি নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতেন। তবে জীবিকার অনিশ্চয়তা তাঁকে সবজি চাষে নামতে উদ্বুদ্ধ করে।
তিনি বলেন, “গত বছর দেড় লাখ টাকা খরচ করে ছয় লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছি। এবার আগের সারঞ্জাম থাকায় এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। আবহাওয়া ও দাম ভালো থাকলে সাত থেকে আট লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছি।”
রুহুল আমিন আরও জানান, আগে দিনমজুরির টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন বছরে পাঁচ-ছয় লাখ টাকার আয় করছেন তিনি।
শুধু রুহুল আমিন নন, সুবর্ণচরের অনেক প্রাক্তন জেলে ও বেকার যুবক এখন করলা ও অন্যান্য সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছেন। অনাবাদি জমি ও ধানচাষের জমি এখন পরিণত হয়েছে করলার বাগানে। কৃষকরা বলছেন, ধানের তুলনায় করলা চাষে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি লাভ হয়।
সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ বলেন, “চলতি অর্থবছরে ভুলুয়া নদীর তীরবর্তী সুবর্ণচরে পতিত ও ধানের জমিতে আগাম শীতকালীন করলা চাষে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সরকারি প্রণোদনায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি।”
তিনি আরও জানান, ২০০৫ সালে নবগঠিত সুবর্ণচর উপজেলা এখন সবজি উৎপাদনে জেলার সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও সুনাম অর্জন করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে