| শিরোনাম: |

দেবিদ্বারে গোল্ডেন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ নামের একটি সরকারি নিবন্ধিত সমিতির বিরুদ্ধে ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সমিতির ২৭ সদস্য জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসারের বরাবর অভিযোগ দায়ের করলে গত ৩ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিসার দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপজেলা সমবায় অফিস ও সমিতির সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার গোল্ডেন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারী সরকারের সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। সমিতির নিবন্ধন নাম্বার ১৯ এবং পরবর্তীতে ০৩১৪ নাম্বারে একটি ডিজিটাল নিবন্ধন নাম্বার দেয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। সমিতির বিনিয়োগকারী সদস্য সংখ্যা ছিল ৩২ জন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমিতিটি ভালোভাবে পরিচালিত হলেও গত ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে কাগজে কলমে নামমাত্র একটি ভূয়া নির্বাচন দেখিয়ে সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ তোফায়েল হায়দার। এছাড়া নির্বাচনের পূর্বে সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সদস্য বৃদ্ধি করে তা ৫২ সদস্য দেখানো হয়। নির্বাচনে সমিতির সদস্য পলাশ ভূইয়াকে সভাপতি, নাছির উদ্দিন ও মোঃ ফয়জুল আমিনকে সদস্য করে একটি নির্বাচন কমিটি দেখানো হয় এবং ওই নির্বাচনে মোঃ তোফায়েল হায়দারকে সভাপতি, কাজী মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে সহ-সভাপতি ও মোঃ রাশিদুল মনির খানকে সম্পাদক করে ৬ সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠণ করা হয়।
কিন্তু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের মধ্যে নাছির উদ্দিন এবং মোঃ ফয়জুল আমিন এ বিষয়ে জানেন না এবং তাদের স্বাক্ষর জাল হয়েছে বলে উপজেলা সমবায় অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও নির্বাচিত কমিটির সদস্য কাজী মহিউদ্দিন হাসান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনও বিষয়টি জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা কয়েক দফায় দেবিদ্বার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন হাসান এর নিকট সমিতির তথ্য চেয়েও কোন প্রকার তথ্য পাননি।
সমিতি সদস্য নাজমুল হাসান সরকার, আবদুল হালিম, রুহুল আমিন খান, খাইরুল আমিন জানান, সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ তোফায়েল হায়দার একজন প্রতারক, আমরা বিশ্বাস করে শুরু থেকে তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। কিন্তু সে সমিতির সদস্যদের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে একটি নির্বাচন দেখিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেছে এবং সমিতির সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি দেখিয়েছে, যা আমরা সাধারণ সদস্যরা অবগত নই। তিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে সমিতির মাসিক ও বার্ষিক সভা না করায় এবং সদস্যদের মাসিক ফি গ্রহণ না করায় বিষয়টি অনুসন্ধানে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র আমরা খুঁজে পাই। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমরা ২৭ জন সদস্য নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।
সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী মহিউদ্দীন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও গত প্রায় দুই বছর ধরে কোন নির্বাচন হচ্ছে না। হঠাৎ করেই জানতে পারি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন কমিটি হয়েছে, সেই কমিটিতে আমরা সদস্য হিসেবে আছি। সত্যি কথা হলো কবে কখন নির্বাচন হয়েছে আমরা কিছুই জানি না। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক আমাদের স্বাক্ষর জাল করেছে। এ অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।
সমিতির নির্বাচন পরিচালনাকারী দুই সদস্য নাছির উদ্দিন এবং মোঃ ফয়জুল আমিন বলেন, সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য দেখিয়ে আমাদের নামে রেজ্যুলেশন করা হয়েছে। কিন্তু ওই রেজ্যুলেশন, সভা বা নির্বাচনের বিষয়ে আমরা কিছুই অবগত ছিলাম না। ওইদিন আমরা আমাদের কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলাম। তোফায়েল হায়দার ও রাশিদুল মনির খান আমাদের স্বাক্ষর জাল করেছে। আমরা দুইজনেই বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
অভিযুক্ত সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ তোফায়েল হায়দার বলেন, কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আমি এই মুহুর্তে অসুস্থ, আপনাকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছি বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিসার মোঃ সালমান ইকবাল বলেন, দেবিদ্বার গোল্ডেন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ