প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৫ পিএম

বগুড়ায় আপন খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হয়েছেন জহুরুল ইসলাম নামের এক বেকারী ব্যবসায়ী। স্ত্রী শামিমা আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক বিপুল মিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৫নভেম্বর) দুপুরে ২ জনকে গ্রেপ্তা্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর।
গ্রেপ্তার শামিমা আক্তার (৩০) বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের শাহীনুর রহমান তালুকদারের মেয়ে। অপর গ্রেপ্তার বিপুল (৩৭) একই ইউনিয়নের অন্তাহার গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বিপুল নিহত জহুরুল এর আপন খালাতো ভাই এবং স্ত্রী শামিমার আপন ফুফাতো ভাই।
এর আগে, গত ৪ নভেম্বর সকালে নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদার পাড়ার ধানক্ষেত থেকে বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, জহুরুল ইসলাম ও বিপুল আপন খালাতো ভাই। ছোট বেলা থেকেই বিপুল ও শামিমা একে অপরকে পছন্দ করতো। জহুরুলের সাথে বিয়ে হওয়ার পরেও তাদের সম্পর্ক চলমান ছিল। ৩ অক্টোবর রাতে জহুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে দুধের সাথে ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে জহুরুলকে অচেতন করেন শামিমা। পরে বিপুল বাড়িতে ঢুকে বাইরে নিয়ে আসে জহুরুলকে। পাশেই অর্ধনির্মিত বাড়িতে নিয়ে যেয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা।
পরদিন সকালে বাড়ির সামনে ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। তবে এখানেই শেষ নয় পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে পরকীয়া প্রেমিক এবং স্ত্রী নিজেই থানায় এসেছেন এজাহার নিয়ে, হত্যার বিচার চেয়ে বক্তব্য দিয়েছেন গণমাধ্যমেও।
ঘটনার পর নিহতের মামা এবং শামিমার বাবা শাহীনুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া পুলিশ সুপার জেদান আল মুসার তত্ত্বাবধানে ২৪ ঘন্টার মাঝেই ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস