আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, বিএনপি ধর্ম বেচে খায় না, বিএনপি ধর্ম নিরপেক্ষ দল। এদেশের মানুষের ধর্মের দুর্বলতা নিয়ে একটি দল রাজনীতি করছে। সে জন্য আলেম ওলামারদেরই সমাজে পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিএনপির বিকল্প নেই।
আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর রামপুরার নতুনবাগে জামিয়া আরাবিয়্যা দারুল উলূম মাদ্রাসায় ওলামা-মাশায়েখ, ইমাম-খতীবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।
আমরা ইসলাম প্রচারের জন্য কাজ করে যাবো উল্লেখ করে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “আপনারা ইতোমধ্যেই জানেন আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে- সকল স্কুলে একজন করে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের। ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্ম চর্চারও প্রয়োজন রয়েছে। এইদেশে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে এই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন খাঁটি মুসলমান এবং ইসলাম ধর্ম ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো সংযুক্ত করেন, যা তার ধর্মীয় নীতির প্রতিফলন।”
ছাত্রদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা স্বৈরাচার হটিয়েছি উল্লেখ করে ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এই জেনারেশন ধর্মীয় শিক্ষায় অনেক পেছানো, তাদেরকে উপযোগী করতে যা যা কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার আমরা করবো। তারা যেনো দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে তাই আমাদের কাম্য।”
আলেম ওলামাদের উদ্দেশ্যে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “একমাত্র আল্লাহর ভীতিই পারে মানুষকে অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে আর আল্লাহর ভীতি সঞ্চার করতে হলে, আলেম ওলামারদেরই সমাজে পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।”
তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, “বিএনপির ৩১ দফার দফা ১৬-তে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংবিধানস্বীকৃত সকল অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিগত সময়ে সংখ্যালঘুদের মন্দির, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা সম্পত্তি দখলের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।”
এছাড়াও এদিন মতবিনিময় সভা শেষে একটি মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল আংশিক এলাকার ওলামা-মাশায়েখ, ইমাম-খতীব ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা।