হবিগঞ্জ শহরের যানজট কমাতে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০০ ইজিবাইককে দুই রঙে বিভক্ত করে পরিচালনার উদ্যোগ মঙ্গলবার উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে।
চলতি নভেম্বরের শুরু থেকেই এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ পৌরসভার অনুমোদন পাওয়া ১ হাজার ৩০০ ইজিবাইকের জন্য বেগুনি ও সবুজ রঙের নতুন নম্বরপ্লেট তৈরি করা হয়েছে। মেইন রোড ও ব্যাক রোড দুই অংশে সমানভাবে ৬৫০টি করে ইজিবাইক চলবে। তবে কার্যক্রমে ধীরগতি ও শহরে অননুমোদিত আরও প্রায় ৩ হাজার ইজিবাইকের ভিড়ে শুধু নম্বরপ্লেটে রঙের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা আনা কতটা সম্ভাবনা এ নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান প্রথম ধাপে ১০টি ইজিবাইকে নম্বরপ্লেট লাগিয়ে এই কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। এরপর প্রতিদিন ১০০টি করে প্লেট সরবরাহের কথা। সব ইজিবাইককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলেও পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, পৌরসভার অনুমোদন ১ হাজার ৩০০ হলেও শহরে চলাচল করছে প্রায় ৪ হাজার ইজিবাইক অর্থাৎ অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে আরও তিন হাজার বেশি। ফলে নির্ধারিত রঙের প্লেটযুক্ত ইজিবাইক প্রতিদিন ১০ থেকে ১০০টি করে রাস্তায় নামিয়ে এই নতুন ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. বাহার উদ্দিন বলেন, “যানজট নিয়ন্ত্রণে যানবাহনে রঙ বিভাজনের উদ্যোগটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে শহরে ছড়িয়ে থাকা হাজারো অবৈধ ইজিবাইকের মধ্যে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০০ ইজিবাইককে শুধুমাত্র ছোট নম্বর প্লেটে রং দিয়ে আলাদা চেনানো কতটা সম্ভব সেটি বড় প্রশ্ন। তার ওপর ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলা এবং জনবল সংকট তো রয়েছেই।” এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা, আন্তরিকতা এবং কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার সচিব জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, “নির্ধারিত রঙের সব ইজিবাইক রাস্তায় নামার পর অনুমোদন বহির্ভূত অতিরিক্ত ইজিবাইকগুলো বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের প্রধান পয়েন্টগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে। রঙিন নম্বরপ্লেট ছাড়া কোনো ইজিবাইক পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে জরিমানা করা হবে।”