
বাগেরহাট জেলা শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হোজির নদী। একসময় নদীতে চলাচল করতো নৌ-যান। স্থানীয়দের মাছ শিকার ও কৃষি সেচের ভরসা ছিল এই নদী। তবে বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা নদীটি মাছের খামারে রূপ নিয়েছে। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে নদীটিতে বাধঁ ও জাল দিয়ে মাছের খামার করে।
স্থানীয়রা জানায়, বিগত ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নদী দখল করে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি, বাগদা, গলদা, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করতেন। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, কৃষি জমি ক্ষতিসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
২০১৭ সালের ১০ মে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তৎকালীন সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট ব্রিজের নিচের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে। তবে এক মাসের মধ্যে দখলদাররা ফের বাঁধ নির্মাণ করে।
ঠিক একই ভাবে ২০২২ সালেও নদী দখলমুক্ত অভিযান চালানো হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও নদী ভাগ করে মাছ চাষ শুরু হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ছোটনদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে ৮.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হোজির নদীর পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। কিন্তু নানা বাধা ও প্রভাবশালীদের চাপের কারণে পুরো খননকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ৬ কিলো মিটার খনন সম্পন্ন হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ কোটি টাকা বিল পেলেও স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাননি।
ডেমা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ নিজামউদ্দিন বলেন, এটা যে নদী, বিষয়টি আমরা সবাই জানি। আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল করে মাছচাষ করতেন, ৫ তারিখের পর আওয়ামী লীগের লোকজন পালিয়ে গেলে বিএনপির লোকজন নদীটি দখল করে মাছচাষ করছে। দখল, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির জন্য আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, আমরাও যদি সেই পথে হাঁটি তাহলে আমাদের অবস্থাও তাদের মতো হবে। নদী সবার, এটা দখল করা উচিত নয়।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লা মামুন বলেন, পূর্বে একাধিকবার উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও প্রভাবশালীরা আবারও নদীটি দখল করেছে। সম্প্রতি নতুন করে দখলের বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না, তবে প্রশাসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি খাল ও নদী দখল করে মাছচাষ বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার আইনত অপরাধ। বিষয়টি জানা ছিলনা, নদীটি উদ্ধারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস