প্রকাশ: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের কেউ ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকতে নাও পারেন বলে জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। এটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এটা শুধু আমার বা আমার পরিবারের বিষয় নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্জনের জন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।
তবে তার এই বক্তব্য তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আগের মন্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন। ওয়াশিংটনে বসবাসরত জয় গত বছর রয়টার্সকে বলেছিলেন, অনুরোধ এলে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং আপাতত ভারতে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
ই-মেইলে রয়টার্সকে দেওয়া এক জবাবে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায় নয়, এটি আত্মঘাতীও।
দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশে ফিরতে চাই, তবে একমাত্র শর্ত হলো সেখানে বৈধ সরকার থাকতে হবে, সংবিধান অটুট থাকতে হবে এবং প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে সহিংস দমন-পীড়ন, গুমসহ নানা অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার যেকোনো ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচার বা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।