প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১৬ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২৫ ৩:৫১ PM

এত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পুলিশ কি মিথ্যা বলছে? ইমাম মহিবুল্লাহকে বিভিন্ন স্থানের সিসি ফুটেজ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেই পুরো ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি হাঁটতে গেছি। হাঁটতে যাওয়ার পরে আমার মাথায় আসলো যে আমি চলতে থাকি, যাই। কোন দিকে যাই বলতে পারি না। একপর্যায়ে অটো পাইছি, অটোতে উঠছি, মীরেরবাজার নামছি। নামার পরে মনে চাইল আমি জয়দেবপুর যাই। সিএনজিতে করে জয়দেবপুর গেছি। এরপর মনে হলো আমি বাসে উঠি। বাসে উঠে গাবতলী গেছি। সেখান থেকে মনে চাইল আমি টিকিট করি। কই যাব খেয়াল হইল—পঞ্চগড় যাই। অনেক রাতে পঞ্চগড় নামছি। নামার পরে হাঁটতেছিলাম, কোন দিকে হাঁটতেছি জানি না। হাঁটতে হাঁটতে দেখি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ লাইনস এগুলো পার হয়ে গেছি। একপর্যায়ে একটা শিকল কুড়িয়ে পাইলাম। ওইটা নিয়ে এক যায়গায় প্রস্রাব করতে বসলাম। প্রস্রাব করলাম আর পায়জামায় প্রস্রাব লাগল, এর পরে জামায়ও লাগল। জামা খুইলা ফালাইলাম, পায়জামাও খুললাম। কিন্তু খোলার পরে আবার পরতে হবে এই জিনিসটা আমি আর পারি নাই ঠাণ্ডায়। ঠাণ্ডায় ওইখানে শুইয়া পড়লাম আর পায়ে শিকল দিলাম। এইটা কেন করতেছি এইটার কোনো চিন্তাভাবনা আমার নাই, খালি যা মাথায় আসতেছে তা করতেছি।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রমাণ পেয়েছি মহিবুল্লাহ ইসকন কর্তৃক অপহৃত হয়েছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি শ্যামলী পরিবহনের বাসে নিজে টিকিট কেটে পঞ্চগড় যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার গতিবিধি ট্র্যাক করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় ইমাম মহিবুল্লাহর সঙ্গে একই বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রী ও বাসের সুপারভাইজারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা একই তথ্য দিলো।
আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এই ঘটনার সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বলেন, মহিবুল্লাহ মিয়াজীর অপহরণের দাবি পুরোপুরি অসঙ্গত। তিনি জানান, ‘মহিবুল্লা দাবি করেছিলেন ২২ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে টঙ্গীর শিলমুন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে তিনি নিজ বাসা থেকে বের হন, ৬টা ৫৩ মিনিটে মসজিদ ত্যাগ করেন এবং ৭টা ১৮ মিনিটে ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছেন। চারটি ভিন্ন এঙ্গেল থেকে নেওয়া ফুটেজে অপহরণের কোনো চিহ্ন নেই। বরং দেখা যায়, মহিবুল্লাহ একাই দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছেন।’
স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সোলেইমানও বলেন, ‘তিন দফায় পুলিশের বিভিন্ন শাখা আমাদের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করেছে। হুজুরকে আমাদের ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়নি।’
আমাদের অনেক সহকর্মী ইতিমধ্যে ইমাম মহিবুল্লাহর সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একই কথা বলেছে। আমি নিজেও ভাবছিলাম ইসকন নিয়ে ইমাম মহিবুল্লাহর চেয়ে লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি সমালোচনাকারী ও বিশ্লেষণী বক্তাদের চেয়ে কি ইমাম মহিবুল্লাহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ অথচ পুরো দেশে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগার উপক্রম হয়েছিলো যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
লেখক: গণমাধ্যম কর্মী
(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ