
মিরপুরের শিয়ালবাড়ির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১২ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর অঙ্গার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তিনি টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা পাননি।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রূপনগর থানা পুলিশের একটি দল সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পোশাক কারখানার তৃতীয় তলার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, “তৃতীয় তলার কাপড় ও মেশিনের স্তূপের নিচে টেবিলের তলায় অঙ্গার হয়ে যাওয়া নারীর একটি লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একই অগ্নিকাণ্ডে তার স্বামীও মারা গেছেন। তার লাশ শনাক্ত করে স্বজনরা ইতোমধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন।”
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ উদ্ধার হলো। এর আগে ১৬টি লাশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সদ্য উদ্ধার হওয়া লাশটিও ডিএনএ পরীক্ষা শেষে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত নারীর পরিবার জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া লাশটি মারজিয়া সুলতানার। তার বাবা সুলতান মিয়া বলেন, “আমাদের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নুরুল্লা গ্রামে। মেয়ে মারজিয়া ও জামাতা জয় মিয়া দুজনেই ওই গার্মেন্টসে কাজ করতেন। আগুনের পর জয় মিয়ার লাশ পাওয়া গেলেও মেয়ে নিখোঁজ ছিল। আমরা বিশ্বাস করতাম, তার লাশ ওই ভবনেই আছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকবার অনুরোধ করেও ভবনে খোঁজার অনুমতি পাইনি। অবশেষে রোববার পুলিশকে নিয়ে খুঁজতে গিয়ে তৃতীয় তলায় কাপড়ের স্তূপের নিচে মেয়ের লাশ পাই। তার পরনের বোরখা দেখে চিনতে পেরেছি।”
গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গুদামের পাশে থাকা পোশাক কারখানাটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পরপর দুই দফায় ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়।
তখন ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনে আর কোনো লাশ নেই। তবে ১২ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একটি লাশ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন বলে জানিয়েছেন, তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ