
সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খাল রক্ষা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সুপেয় পানির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল সভাপতিত্বে পাকাপুল সংলগ্ন পাসপোর্ট অফিসের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয় ইয়ুথ অ্যালায়েন্স, জেলা নাগরিক কমিটি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, নদী বন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি, বিডি ক্লিন, স্বদেশ, সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম অ্যালার্ট টিম, বারসিক, ভিবিডি, ক্রিসেন্ট, ল স্টুডেন্ট ফোরাম, উত্তরণ, প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, টিআইবি, গ্রীনম্যান, জনকল্যাণ সংস্থা ও শরুব ইয়ুথ টিম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে খালের বড় অংশ দখল, আবর্জনা ফেলা, অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। খালের তলদেশ ভরাট ও নিয়মিত খনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ কমে গেছে। সুইচ গেটের কারণে সংযোগ খালগুলোতে জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে খালটি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, ফলে শহরে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশা-বাহিত রোগসহ নানান স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পানির বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও ন্যায্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।মানববন্ধন শেষে প্রাণসায়ের খালের অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে সাতক্ষীরার মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনের দাবিসমূহ,খালের নান্দনিকতা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, খালের দুই পাড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষিত সবুজ বেষ্টনী তৈরি, ঢাক নাযুক্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন ব্যবস্থা সংস্কার ও উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত মনিটরিং, যুব ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে তদারকি কমিটি গঠন, কসাইখানা ও দূষণকারী স্থাপনা স্থানান্তর, খালগুলো অবমুক্ত করা এবং জনমত গঠন করা।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাণসায়ের খাল জেলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় জমিদার প্রাণনাথ রায়চৌধুরী শহরের উন্নয়ন, নৌ-যোগাযোগ ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে ১৮৬০ থেকে ১৮৬৫ সালের মধ্যে এই খালটি খনন করেন। তাঁর নামানুসারেই খালের নামকরণ হয় “প্রাণসায়ের খাল”।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস