প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:০০ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ি মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। দীর্ঘদিন দাবির পর একটি নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলে প্রায় এক বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ।
নির্মাণাধীন সেতুর পাশে থাকা প্রকল্পের তথ্যফলক অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস (এসইউপিআরবি)’ প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল–আছিম সড়কের মঠবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি বাজারে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয় এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসনে ভূমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।
কাজটি বাস্তবায়ন করছে এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, “সেতুর তিনটি স্প্যানের মধ্যে দুটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি স্প্যান আটকে আছে। প্রায় ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রকৌশল বিভাগ আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে পারছে না। জমি বুঝে পেলে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেতু ও বেইলি সেতুটি পাশাপাশি অবস্থিত। বেইলি সেতুর পাটাতন ও কাঠামো নড়বড়ে অবস্থায় আছে, ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। নির্মাণাধীন সেতুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হলেও গত এক বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, “৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, “পুরোনো বেইলি ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা মাঠে মাপজোক করছি। আশা করি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাতধারা অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে। পরে প্রাক্কলন তৈরি করে যথাযথ সংস্থায় পাঠানো হবে, টাকা পেলেই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস