
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালত
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে জনবল ও অবকাঠামো সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিচারিক সেবা। এর ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন বিচারপ্রার্থী মানুষ। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের অধীন বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫৭ হাজার ১০৬টি। এর মধ্যে সিভিল মামলা ৪৩ হাজার ৮০৯টি এবং ফৌজদারী মামলা ১৩ হাজার ২৯৭টি। এসব মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭টি আদালত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনতলা আদালত ভবনের প্রতিটি কক্ষে বিচারিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও জায়গার অপ্রতুলতা ও সংকীর্ণ দপ্তরকক্ষের কারণে নথি ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরায় আরও ১৬টি নতুন আদালত সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের সুযোগ না থাকায় নবসৃষ্ট আদালত গুলোর জন্য এজলাস ও দপ্তরের কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না— যা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে চলমান আদালত গুলোর সহায়ক কর্মচারীদের জন্য ১২৯টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ৩২টি পদ শূন্য। ফলে তীব্র জনবল সংকটের মুখে রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। নবসৃষ্ট ১৬টি আদালতের জন্য এখনো কোনো জনবল কাঠামো তৈরি হয়নি বলেও জানা গেছে।
বিশেষ করে যুগ্ম জেলা জজ (২য় আদালত) ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কোনো নির্দিষ্ট জনবল কাঠামো না থাকায় একই সহায়ক কর্মচারীকে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা সেবা ব্যাহত করছে।
এ অবস্থায় জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূর না হলে সাতক্ষীরার বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমদাদুল ইসলাম বলেন,সাতক্ষীরা জেলার আয়তন প্রায় ৩,৮৫৮ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ২২ লক্ষাধিক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ আদালতে আসে বিচার পেতে। বর্তমানে ১৭টি আদালত কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং নতুন করে ১৬টি আদালত সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিচারিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এখন সময়ের দাবি। আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আব্দুস সাত্তার বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষকে দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে সরকার সাতক্ষীরায় ১৬টি নতুন আদালত সৃষ্টি করেছে— এটি দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ। তবে এসব আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো না থাকলে সুফল মিলবে না। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু সুফিয়ান বলেন, জেলা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের সব কক্ষই বর্তমানে পূর্ণ। নতুন ১৬টি আদালত গঠনের পর এজলাস ও দপ্তরের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সংকট অনেকটাই নিরসন সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাতক্ষীরার আদালত অঙ্গনে চলমান জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দূরীকরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/নিয়াজ