প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৯ পিএম

পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ দারুণভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু এরপর টানা চার ম্যাচে হারের পরও সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশা টিকে ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। সেই আশাও শেষ হয়ে গেল শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানে হেরে। ফলে লিগ পর্ব শেষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েদের।
রাঙিয়ে দেওয়া জয়ের স্বপ্নটা শেষ মুহূর্তে ভেঙে যায় অবিশ্বাস্যভাবে। লঙ্কানদের দেওয়া ২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৭ রান, হাতে ছিল সাত উইকেট। কিন্তু সেই সহজ সমীকরণও রক্ষা করতে পারেনি জ্যোতিরা—শেষদিকে মাত্র ১ রান যোগ করতেই হারায় পাঁচ উইকেট!
অবিশ্বাস্য এই পরাজয়ের পর ম্যাচশেষে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি স্বীকার করেছেন, দল চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা এমন তিনটি ম্যাচ হারলাম, যা আমাদের হাতেই ছিল। এটি অবশ্যই হৃদয়বিদারক। কিছু সময় আমরা পরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি, স্নায়ুর চাপ সামলাতে পারিনি।”
ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই ধরনের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে জ্যোতি বলেন, “এই ধরনের রান তাড়ায় আমরা দেখেছি অন্য দলগুলো শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় লড়েছে, কিন্তু আমরা পারিনি। এই চাপ নেওয়ার জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।”
৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে তোলেন জ্যোতি ও শারমিন সুপ্তা। দুজনের ব্যাটে আসে ৮২ রানের জুটি। কিন্তু ক্র্যাম্পের কারণে সুপ্তাকে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়—সেখানেই মোমেন্টাম বদলে যায় বলে মনে করেন জ্যোতি।
যেভাবে ব্যাটিং করছিলাম, এটি আমাদের ম্যাচ ছিল। আমি আর সুপ্তা ভালো ব্যাট করছিলাম। কিন্তু সে যখন মাঠ ছাড়ে, আমাদের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। পরে স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়লেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়ে জয় হাতছাড়া হয়। জ্যোতির ভাষায়, সুপ্তা যাওয়ার পর আবার জুটি গড়তে হয়। ভালোই যাচ্ছিল, কিন্তু আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়েছি। এই ম্যাচ আমাদেরই ছিল।
ছয় ম্যাচে পাঁচ হার নিয়ে এখন কেবল ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বাকি বাংলাদেশের। সেটি আর কোনো ফলাফল বদলাবে না—এখন তা শুধুই নিয়মরক্ষার ম্যাচ।