প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪১ পিএম

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় ফল বাতিল হওয়ায় বাদ পড়া ১,১৩৭ জন প্রার্থীর চাকরিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সিনিয়রিটি ও পদবিসহ অন্যান্য বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
চূড়ান্ত শুনানির পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নির্দেশে প্রার্থীরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ৩,৫৬৬ জন প্রার্থীর। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
তবে চাকরিতে যারা ইতিমধ্যেই রয়েছেন, তারা দুশ্চিন্তায়। সিনিয়রিটি কীভাবে নির্ধারিত হবে, পদোন্নতি ও ট্রেনিং কেমন হবে—এসব বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “সিনিয়রিটি রুলস আছে, কিন্তু ট্রেনিং ও পদোন্নতি সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে। বিষয়টি জটিল, তাই সরকারকে সতর্কভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে।”
২৭তম বিসিএসের ইতিহাসও জটিল। প্রথম মৌখিক পরীক্ষা ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩,৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ফল বাতিল করে। ২৯ জুলাই দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, ৩,২২৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন প্রথম পরীক্ষার ভিত্তিতে যারা যোগ দেবেন, তাদের সঙ্গে চাকরিতে থাকা ১৭ বছরের অভিজ্ঞদের মেধা ও সিনিয়রিটি কিভাবে সমন্বয় হবে তা স্পষ্ট নয়।
প্রার্থীরা উদ্বিগ্ন, কেউ কেউ বলেন, “প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেকে দীর্ঘকাল চাকরি না করেও আমাদের ওপরে অবস্থান করবে। এটি কি আমাদের সঙ্গে অন্যায় নয়?” কেউ বলেন, “পুলিশে যোগ দেবার বয়স এখন ৫০। আবার ফাউন্ডেশন ট্রেনিং করতে হবে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না।”
সরকার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে চাকরিপ্রত্যাশীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে