প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম আপডেট: ২০.১০.২০২৫ ৮:৩৭ PM

সাভারে ঢাকাই সিনেমার অভিনেতা ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিলের মালিকানাধীন কারখানায় গ্যাস চুরির অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, কারখানায় গ্যাস বিল বকেয়া রাখার পাশাপাশি মিটার টেম্পারিং করে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিতাসের ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম রাসেল জানান, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও টেম্পারিং করা মিটার জব্দ করতে গেলে তিতাসের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের দিয়ে অভিযানকারী দলকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তিতাস কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে অনন্ত জলিল বলেন, “আমি কিছুদিন ধরে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করতে পারছিলাম না, তাই জুয়েল নামের একজনকে ভাড়া দিয়েছিলাম। সে বিল পরিশোধ না করে এবং মিটার টেম্পারিং করে আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।” তিনি আরও জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না এবং সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান, কারণ এতে তার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিতাসের সাভার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এজেআই গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের তিনটি গ্যাস সংযোগের মধ্যে দুটি সংযোগের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বকেয়া রয়েছে। বকেয়া আদায়ের সময়ই গ্যাস চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিতাসের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর প্রথম অভিযান চালানো হলে দলটিকে বাধা দেওয়া হয়। পরে ১৯ অক্টোবর পুনরায় অভিযান চালিয়ে দুটি মিটারেই টেম্পারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিতাসের আরএমএস ইঞ্জিনিয়ারিং, টেস্টিং অ্যান্ড সিলিং বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তৌফিক এলাহী সবুজ বলেন, “পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দুটি মিটার এমনভাবে টেম্পারিং করা হয়েছিল যাতে পর্যাপ্ত গ্যাস ব্যবহারের পরও বিল কম আসে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।”
উল্লেখ্য, গত বছর সরকারের পতনের পর আর্থিক সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত এজেআই গ্রুপ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। গ্রুপটির টেক্সটাইল ইউনিট গ্যাসনির্ভর হলেও পোশাক কারখানা চালিত হতো বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ