পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার স্বরূপকাঠী-পিরোজপুর আঞ্চলিক সড়কের গণমান এলাকার ব্রিজটি এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৩ টন ধারণক্ষমতার এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ২০-৩০ টন ওজনের ভারী মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ছোট যানবাহন চলাচল করছে। ফলে ব্রিজটির রেলিং ও পাটাতন ভেঙে পড়েছে, যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের ভাঙা জায়গাগুলোতে লোহার পাত ও ইট-পাথরের সুড়কি দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক স্থানে রড বেরিয়ে পড়েছে, এবং টমটম উঠলেই ব্রীজ দুলে ওঠে।
স্থানীয় বৃদ্ধ মো. আবুল বাশার বলেন, “ত্রিশ বছর আগে নির্মিত এই ব্রিজটি এখন একেবারেই অচল। রেলিং ও পাটাতন ভেঙে গেছে বহু আগে, এখন প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে।”
স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আদনান হোসনাইন বলেন, “এরশাদ সরকারের আমলে ব্রিজটি নির্মিত হয়েছিল। বহু বছর সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি সম্পূর্ণ নাজুক অবস্থায় আছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা অনিবার্য।”
স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মো. মাইনুল হোসেন বলেন, “ব্রিজটির পাটাতন ও রেলিং প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও মুসল্লি এই পথে যাতায়াত করে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজটির অবস্থা খুবই খারাপ। পিরোজপুর সড়ক বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে দ্রুত মেরামতের জন্য জানানো হবে।”