প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ২:১৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি
শুধু ওজন বা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, আমাদের খাদ্যাভ্যাস সন্তান ধারণের ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, নারীদের জন্য ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সুস্থ গঠন নিশ্চিত করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন অন্তত ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে বিভিন্ন খাবারে ফলিক অ্যাসিড সংযুক্ত করা হয়, যাতে গর্ভধারণের ঝুঁকি কমানো যায়।
নারীর পাশাপাশি পুরুষদের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর মান, গতি ও আকার শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। অপুষ্টি, স্ট্রেস ও পরিবেশ দূষণের কারণে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাদ্য একাই সব সমস্যার সমাধান না হলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শরীরকে প্রজননের জন্য প্রস্তুত রাখা সম্ভব। গর্ভাবস্থায়ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানলে শিশুর স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া গেছে—১৯৪৪ সালের ‘ডাচ হাঙ্গার উইন্টার’-এ প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে গর্ভে থাকা অনেক শিশুর মধ্যে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, মা-বাবা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে প্রচুর শাকসবজি, ফল, লাল মাছ, ডিম, বাদাম ও দুধজাত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই ক্ষেত্রে পুরুষদের সচেতনতা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তান ধারণ সহজ নয়, কিন্তু নিজের ও ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।