
সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সদর গ্রামে অনেকের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। কেউ চোখ ফোলা, কেউ হাতে ফোসকা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। মোজাফফর আলীর বাঁ-চোখ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। সম্প্রতি এক নারীর মৃত্যুর খবর এসেছে, তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তিনি অ্যানথ্রাক্সে মারা যাননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সামিউল ইসলাম, সাহাদৎ হোসেন, সবুজ মিয়া, আজিজুল হক, ভূট্ট মিয়া, আতিকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মোজাহার আলী, মোজাফফর হোসেন, খতিব মিয়া, ফরিদুল হক, রুজিনা বেগম, মোজা মিয়া, মাহবুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, স্বাধীন মিয়া, সকিনা বেগম, তাইজল মিয়া, শিশু ছায়ফান, আফরিন বেগম, ছালদিয়া ইসলাম ও রইসুল মিয়া। এর মধ্যে রুজিনা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায়ও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আইইডিসিআর অনুযায়ী, পীরগাছা থেকে ১২টি, কাউনিয়া থেকে ৪টি এবং মিঠাপুকুর থেকে ৫টি করে মোট ২১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নমুনা পজিটিভ। গত ৪ দশকে অ্যানথ্রাক্স অন্তত ১৬ জেলায় শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের কারণে উত্তরের জনপদে আতঙ্ক, গরু-ছাগলের মাংসের বেচাকেনা কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গবাদিপশুকে টিকাদান ও সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ সম্ভব। রোগটি সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়, মানুষের মধ্যে ত্বকের অ্যানথ্রাক্স সবচেয়ে সাধারণ। প্রায় ৯৫% সংক্রমণ ত্বকে হয় এবং যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
সরাসরি মাংসের সংস্পর্শে আক্রান্তরা আক্রান্ত হয়েছেন। হাসান মিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামের বাজারে মাংস বিক্রি হচ্ছে না। গনি মিয়া জানান, গবাদিপশুর টিকা দেওয়ার জন্য গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে বলেছেন, গবাদিপশুর টিকাদান চলছে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য উঠান বৈঠক, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। চারটি গরুর নমুনা পরীক্ষা করে দুটির মধ্যে অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়েছে। ৬টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। ১৫ আগস্ট থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩টি গরু মারা গেছে।
মোজাফফর আলী (৫০) বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর গরু কাটায় অংশ নেওয়ার দুদিন পর তার বাঁ-হাতে ও বাঁ-চোখে ফোসকা দেখা দেয়। হাসপাতাল থেকে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছে। পরে গাইবান্ধার রাবেয়া ক্লিনিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে।
নুরুন্নবী মিয়ার (১৬) মা নুরনাহার বেগম (৫৬) জানান, তার ছেলের ডান হাতে ফোসকা। হাসপাতালে ভর্তি করতে না পারায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। ২০ দিনের চিকিৎসার খরচ প্রায় ৩ হাজার টাকা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানিয়েছেন, হাসপাতালে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়নি। ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে রোগীরা ১৫-২০ দিনের মধ্যে সুস্থ হবে।
সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান বলেছেন, অ্যানথ্রাক্স সাধারণত ত্বকের মাধ্যমে হয় এবং এটি ছোঁয়াচে নয়। জনসচেতনতার জন্য মাঠে কাজ শুরু হয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর কিশামত সদর গ্রামে একটি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাই হয়। এতে ১১ জন অংশ নেন। দুদিন পর তাদের শরীরে ফোসকা এবং মাংসে পচনের উপসর্গ দেখা দেয়, প্রধানত হাত, নাক, মুখ ও চোখে।