প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪১ পিএম আপডেট: ০৪.১০.২০২৫ ২:৪৫ PM

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সালিশী বৈঠকের নামে ডেকে নিয়ে আটকে রাখার পর এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকার সড়কের পাশের একটি গাছ থেকে জাহেদ হোসেনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মো. জাকেরের ছেলে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সোহেল মাহমুদ হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে দিনমজুর হিসেবে সোহেল মাহমুদের বাড়িতে কাজ শুরু করেন জাহেদ। মাত্র দুই-তিন দিন কাজ করে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে আলমারির চাবি, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিস চুরির অভিযোগ ওঠে।
জাহিদের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় আলি বাজার এলাকা থেকে জাহেদকে ধরে মোটরসাইকেলে প্রকল্প বাজারে নিয়ে যান সোহেল মাহমুদ। সেখানে সালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ডেকে আনা হয় তার বাবাকেও। অভিযোগ শোনানোর পর একপর্যায়ে জাহেদের বাবাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু জাহেদকে সেখানে আটকে রাখা হয়। রাতেই তাকে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার করা হয়। শনিবার ভোরে প্রকল্প বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
মো. জাকের বলেন, “আমার ছেলেকে আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। যদি সে ভুল করে থাকে, আমাকে দিলে আমি বিচার করতাম। তাকে কেন আমার হাতে দেয়নি? কেন আটকে রাখা হলো?” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন, “ছেলেটা আগে আমাদের বাড়িতে কাজ করতো। ঘর থেকে চাবি, মোবাইল চার্জারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। গতকাল সন্ধ্যায় আলি বাজারে দেখে তাকে বাড়ির সামনে আনা হয়। তার বাবাকেও ডাকা হয় এবং জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই।”
হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, “এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও নিশ্চিত নই। তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”