প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪৩ পিএম আপডেট: ০৪.১০.২০২৫ ২:৫১ PM

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রাম থেকে এক চিকিৎসকের স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি শাওন আহমেদ (৩১) ও তার সহযোগী মো. আলমগীর (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। একইসঙ্গে অপহৃত নাদিয়া মনিরকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অপহৃত নাদিয়া মনির মালয়েশিয়া প্রবাসী মনির প্রধানের মেয়ে। সম্প্রতি তাকে দলবদ্ধভাবে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা নাজমা আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অপহরণকারী শাওন আহমেদ স্থানীয় এক দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার আগের স্ত্রী সুমি আক্তার সম্প্রতি যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগে শাওনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। শাওন ও সুমির সংসারে তিন বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে।
অপরদিকে, অপহৃতা নাদিয়া মনিরের কয়েক বছর আগে সোনারগাঁ উপজেলার বাড়ি মজলিশ গ্রামের এক চিকিৎসকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে নিনীত নামে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
আড়ালিয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শাওন ও নাদিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই টানেই নাদিয়া স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।
তবে ওসি আনোয়ার আলম বলেন, “অপহরণের বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাদিয়া মনির কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে অপহরণ ও যৌতুক নির্যাতন মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাওন আহমেদকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাদী নাজমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, এই কথিত অপহরণের ঘটনায় দুইটি শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে