প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৯ পিএম

ফাইল ছবি
সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান। বাকিরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের। কিন্তু আমরা এখানে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট দাঈ ও ওয়ায়েজ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
মানুষের সামনে বিভিন্ন ধর্মমত আছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা যেমন আল্লাহ তায়ালার দরবারে দরখাস্ত করে পয়দা হওয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ নিইনি, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও ঠিক তাই। সবাই আল্লাহর ইচ্ছায় এখানে জন্ম নিয়েছেন। আল্লাহ মানুষকে বিচার বিবেচনা ও বিবেক দান করেছেন। মানুষ বিচার-বিবেচনা ও বিবেকের জায়গা থেকে সে ধর্মকে গ্রহণ করবে।”
আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ জাতি হিসেবে এখানে আমরা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান দশকের পর দশক বসবাস করে আসছি। পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে কয়টি দেশ আছে উল্লেখ করার মতো, সেখানে বাংলাদেশ বিশেষ স্থানে।”
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলেম সমাজকে পথ দেখাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও একটি মানবিক সমাজ গঠন করা যায়নি। সবাই নয়, শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। আল্লাহভীরু মানুষরা দেশের নেতৃত্বে এলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, গঠিত হবে মানবিক সমাজ। সেই লক্ষ্যে আলেমসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
এছাড়াও আলেম সামাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, “হেদায়েত দেওয়ার মালিক আল্লাহ। সেখানে আমাদের অসহিষ্ণু হওয়ার সুযোগ নাই। যখন কোনো জাতি বিপদে পড়ে তখন সেই জাতির আলেম বা শিক্ষিত মানুষদের পথ দেখানো। তারা হবেন রাহবার। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর পার করছে। প্রথম স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালে। ৮৪ বছর অতিক্রম করার পরও আমরা মানবিক, দায়িত্বশীল সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। এই সংকট উত্তরণে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যদি আলেমরা পথ দেখান তাহলে জাতি পথ পাবে, উপকৃত হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস