প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৪০ AM

অ্যান্টিবায়োটিক এখন অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকারিতা হারাচ্ছে, কারণ ব্যাকটেরিয়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা ফিরে যাচ্ছেন শতবর্ষ পুরোনো চিকিৎসা পদ্ধতি—ফেজ থেরাপির দিকে।
ফেজ থেরাপিতে ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরনের ভাইরাস, যাদের বলা হয় ব্যাকটেরিওফেজ। এরা সরাসরি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে সক্ষম। ১৯২০-এর দশকে এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় ছিল, তবে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার ও সহজলভ্য হওয়ার পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
সম্প্রতি হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম ও মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক নতুন গবেষণায় দেখিয়েছেন, ফেজ থেরাপি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী “সুপারবাগ” মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল সেল রিপোর্টস-এ।
তবে এ চিকিৎসার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন—ব্যাকটেরিয়া যেভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়, সেভাবেই তারা ফেজের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ব্যাকটেরিয়া ও ফেজের এই “লড়াইয়ের কৌশল” গভীরভাবে বুঝতে পারলেই ভবিষ্যতে আরও কার্যকর চিকিৎসা তৈরি সম্ভব হবে।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী দেবনাথ ঘোষাল বলেন, “আমরা আশা করি, আবারও ফেজ থেরাপি চালু করে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প চিকিৎসা তৈরি সম্ভব হবে। অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, শত বছর পরও ফেজ থেরাপিকে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে।”
গবেষণায় দেখা গেছে, Bacillus subtilis নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ফেজ আক্রমণ ঠেকাতে YjbH প্রোটিন ব্যবহার করে। এই তথ্য ভবিষ্যতের চিকিৎসা উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ