প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩৯ পিএম

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা কফ সিরাপ পানে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সিরাপ সেবনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও অন্তত ১০ জন শিশু। এরপর সিরাপটি নিরাপদ প্রমাণ করতে গিয়ে খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এক সিনিয়র ডাক্তার। খবর এনডিটিভির।
জানা গেছে, নীতিশ নামক ওই শিশু রাজস্থানের শিকর জেলার বাসিন্দা। সর্দি-কাশি হয়েছিল বলে তার মা-বাবা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক একটি কাফ সিরাপ লিখে দেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে তার মা ওষুধ খাওয়ান। রাত তিনটের দিকে শিশুটি ঘুম থেকে উঠে পড়ে এবং হেঁচকি তুলতে শুরু করে। মা পানি খাইয়ে শুইয়ে দেয়। এরপর আর শিশুটি ওঠেনি। আর সম্রাটের সঙ্গে আরও দুই শিশু একই ওষুধ খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অচেতন হয়ে ছিল, তবে পরে তারা সুস্থ হয়েছে। কিন্তু সম্রাট মারা গেছে।
অভিভাবকদের গুরুতর অভিযোগের মুখে ভরতপুরের বায়ানায় অবস্থিত কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. তরাচাঁদ যোগী ওষুধের নিরাপত্তা প্রমাণ করার জন্য নিজেই সেই বিতর্কিত কফ সিরাপটি খান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তার সঙ্গে থাকা এক অ্যাম্বুলেন্স চালকও একই সিরাপ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই সিরাপের প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার বোতল বিতরণ করা হয়েছিল। বর্তমানে জয়পুরে মজুত থাকা আরও ৮ হাজার বোতল সিরাপ রোগীদের সরবরাহ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিশু মৃত্যু ও শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনার পরই রাজস্থান সরকারের তরফে ওই কাফ সিরাপের ২২টি ব্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউশনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে কোম্পানি এই সিরাপ সরবরাহ করেছিল, সেই কেসন ফার্মা নামের কোম্পানির সরবরাহ আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম