প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:২২ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চারদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করা হয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ও নবীনগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এর নির্দেশে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ফাঁড়ির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেন।
নতুন করে চালু হওয়া ফাঁড়িতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ইনচার্জ হিসেবে এবং ৭ জন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করছেন।
পুনরায় কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে উপস্থিত স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, “সলিমগঞ্জ ফাঁড়িতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের কারও কাম্য ছিল না। তদন্ত চলছে, এবং দোষী কেউই ছাড় পাবে না।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ কারও শত্রু নয়, বরং জনগণের বন্ধু। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করলে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”
মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে ওসি বলেন, “মাদকের কারণে অনেক পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এই ভয়াবহ সমস্যা দূর করা সম্ভব নয় প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।”
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে চুরির অভিযোগে আবদুল্লাহ (পিতা: আবুল মিয়া, গ্রাম: বাহেরচর, তেজখালী ইউনিয়ন, বাঞ্ছারামপুর) নামক এক যুবককে স্থানীয়রা ধরে সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তাকে তিনদিন ধরে ফাঁড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে এলাকাবাসী ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন সাময়িকভাবে ফাঁড়ি বন্ধ ঘোষণা করে এবং সেখানে সেনা মোতায়েন করে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে