
সংগৃহীত ছবি
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় সংঘাতের আগুন জ্বলছে পাহাড়ে। ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রামসু বাজারের মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে, টায়ার ও গাছের গুড়ি ফেলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ পালন করেন অবরোধকারীরা। এসময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
অবরোধকারীরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ১১ সেনা সদস্য আহত হন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষে কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসন তা নিশ্চিত করতে পারেনি। স্থানীয়দের সঙ্গে পাহাড়ি-বাঙালির দফায় দফায় সংঘর্ষে অসংখ্য লোক আহত হয়।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: আরেফিন জুয়েল ফোনে বক্তব্য প্রদান না করায় প্রশাসনের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলকে গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী করেছেন।
সড়ক অবরোধ চলাকালে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জেলা প্রশাসক দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। স্বনির্ভর, চেঙ্গী স্কয়ার, নারিকেল বাগান ও মহাজনপাড়া এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ইটপাটকেলের আঘাতে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জনের বেশি আহত হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারের সভাপতিত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাসহ প্রশাসন একটি বৈঠক করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির মধ্যে রয়েছে। তাই ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত চয়ন শীল নামে এক কিশোরকে পুলিশ আটক করেছে; বর্তমানে তিনি ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। অজ্ঞাতনামা আরও দুই জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করছে জুম্ম ছাত্র-জনতা।
শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে জুম্ম ছাত্র-জনতার তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে।
সড়ক অবরোধের কারণে শনিবার থেকে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সদর উপজেলার সঙ্গে দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়, মহালছড়িসহ নয়টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সাজেকে আটকে পড়া ২১৪৭ জনকে সোমবার রাতেই সেনাবাহিনীর বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো