প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৩১ পিএম

প্রতীকী ছবি
দান-সদকা ইসলামের এক মহৎ ইবাদত, যা শুধু দুনিয়ায় কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং পরকালেও নাজাতের পথ উন্মুক্ত করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা দানের মাধ্যমে মানুষের অন্তরকে পবিত্র করার কথা বলেছেন (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে দানকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, হালাল উপার্জিত সামান্যতম দানও আল্লাহর কাছে কবুল হয় এবং পাহাড়সম সওয়াবে পরিণত হয় (বুখারি, হাদিস: ১৪১০)।
কিন্তু শয়তানের কাজ হলো মানুষকে এই মহৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। সে মানুষকে দরিদ্রতার ভয় দেখায়, মনে করায়, দান করলে নিঃস্ব হয়ে যাবে। অথচ মন্দ কাজে ব্যয় করার সময় শয়তান কোনো ভয় বা দ্বিধা মনে আনতে দেয় না; বরং অশ্লীলতা, অপচয় কিংবা অন্যায় কাজে অর্থ খরচ করাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
এই বাস্তবতা আমরা সমাজেও দেখি, কোনো মসজিদ, মাদরাসা বা কল্যাণমূলক কাজে সামান্য অনুদান দিতে অনেকেই দ্বিধা করেন, বারবার হিসাব কষেন। অথচ মামলাজট, বিলাসিতা বা অশ্লীল কাজে একই ব্যক্তি বিনা দ্বিধায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে ফেলেন।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দেন ক্ষমা ও অনুগ্রহের। আল্লাহ অশেষ প্রাচুর্যের অধিকারী, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৮)
অতএব, শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের উচিত দান-সদকার গুরুত্ব বোঝা এবং কল্যাণকর কাজে উদার হওয়া। কারণ দান শুধু সম্পদ কমায় না, বরং আল্লাহর রহমতে জীবনে বরকত ও প্রশান্তি বৃদ্ধি করে।