
সংগৃহীত ছবি
আপনি কি মনে করেন, প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমালেই শরীর ঠিকঠাক চলে? অনেকেরই এমন ধারণা আছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নিয়মিত কম ঘুম শরীরের ভেতরে অদৃশ্য ক্ষতির বীজ বপন করে, বিশেষ করে আমাদের হৃদয়ে। হার্ট নীরবে কষ্ট সহ্য করে, অথচ আমরা টেরই পাই না।
কার্ডিওলজিস্ট ডা. অমিত কুমারের মতে, “শুধু জেগে থাকা মানেই শরীর ভালো থাকা নয়। অনেক সময় বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ঘুমের মেরামতির কাজ
রাতে যখন আমরা ঘুমাই, তখন শরীর এক ধরনের ‘মেরামতির’ প্রক্রিয়ার মধ্যে যায়। রক্তচাপ কমে, হৃদস্পন্দন ধীর হয়, স্ট্রেস হরমোন হ্রাস পায়। একইসঙ্গে প্রদাহ কমে এবং রক্তনালি মেরামত হয়। কিন্তু নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বাধা পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হয় নানা জটিলতা—উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হার্টবিট, এমনকি রক্তনালির ক্ষতিও।
কম ঘুমে হৃদয়ের চার বড় ক্ষতি
উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে হার্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
প্রদাহ: ঘুম কম হলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, যা হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে।
হরমোনের গড়মিল: স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়, ওজন বাড়তে থাকে। সব মিলিয়ে হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।
হার্টবিটের অসামঞ্জস্য: ঘুমের ঘাটতিতে বৈদ্যুতিক সংকেতের গোলমাল দেখা দিতে পারে, ফলে স্পন্দন অনিয়মিত হয়।
কতটুকু ঘুম দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। শুধু সময় নয়, ঘুমের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ঘুমের অভ্যাস
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া
ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা
হৃদয়ের জন্য কেন জরুরি ঘুম
আমাদের হৃদয় প্রতিদিন গড়ে এক লাখ বার স্পন্দিত হয়। সেই কর্মব্যস্ত অঙ্গটিকে সতেজ রাখার একমাত্র উপায় হলো নিয়মিত, পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত ঘুম।
ছয় ঘণ্টার ঘুম হয়তো আপনাকে ক্লান্ত মনে হতে দেবে না। কিন্তু নীরবে, অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার হৃদয়। তাই নিজের হার্টকে সুস্থ রাখতে এখন থেকেই গুরুত্ব দিন ঘুমে—কারণ, সুস্থ হৃদয় মানেই সুস্থ জীবন।