আমরা চাই আ. লীগ-জাপা ও তাদের শরিকেরা নির্বাচনে অংশ নিক: ফখরুল

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, বিএনপির কৌশল এবং জামায়াত প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ চান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এ জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি- তাদের মধ্যে আওয়ামী-বিরোধিতা রয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে ভারতের কলকাতার ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়।
আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বা ওয়ার্কার্স পার্টির মতো দল কি আগামী ভোটে অংশ নিতে পারবে?- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলেছি আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকেরা সবাই, এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এ জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি— তাদের মধ্যে আওয়ামী-বিরোধিতা রয়েছে।
আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কি আদৌ হবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দেশজুড়ে অশান্তি বা সহিংসতার আশঙ্কাও নেই। মানুষ এখন ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা নির্বাচন চায়। এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’
জামায়াত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি ছাড়া ভোট হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ভোটে আসবে। মানুষ যে পদ্ধতিতে ভোট বোঝেন, সেই প্রচলিত পদ্ধতিতেই বাংলাদেশের ভোট হবে। জামায়াত ও এতে অংশ নিতে পারে।
এনসিপি চাইছে প্রচলিত সংবিধান বাতিল ও আগে গণপরিষদ নির্বাচন, এর আগে তারা জাতীয় নির্বাচন চাইছেন না.. এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনসিপিকে আমরা কোনো শক্তি বলে মনে করি না। এটা ঠিক এই ছাত্ররাই যারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বারুদে আগুনটা দিয়েছিল। তাদের সাথে আর জনগণ নেই।’
এনসিপি নাকি আপনাদের কাছে আসন চেয়েছিল? এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, না। এনসিপি কখনও চায়নি। তবে জামায়াত চেয়েছে। এনসিপির এখন একমাত্র লক্ষ্য, বিএনপিকে সরকার গঠন করতে না দেওয়া।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত ৩০টা চেয়েছে। আমরা উৎসাহ দেখাইনি। অনেক কম একটা সংখ্যার কথা বলেছি, যা তাদের মনঃপূত হয়নি। আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেবো না। তারা যত বড় না শক্তি, আমরা অকারণে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পিআর-টিআর সবই বিএনপির উপরে চাপ সৃষ্টির কৌশল। জামায়াত কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও চান নির্ধারিত সময়ে ভোট হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম