
লিভ-ইন শব্দটি যেন একটি ভয়াবহ মহামারীর নাম। যে মহামারীর ঝড়ে হাজারো প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে । অনেক পরিবারের নিরব আর্তনাদের কারণ এই শব্দটি। লিভ-ইন বলতে বুঝায়, বিয়ে না করে দুজন মানুষ বিবাহিত দম্পত্তির মতো একই ছাদের নিচে বসবাস করা। এটি পশ্চিমা সমাজের একটি প্রথা হলেও আজ এশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক প্রচলন ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্পর্কের প্রচলন না থাকলেও চুপিসারে তা ব্যাপক সয় লাভ ঘটছে। অনেকেই এ সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক সম্পর্কের চোখে দেখে থাকে। কিন্তু এর ভয়াবহ পরিনতির বিষয়ে তাদের ভাবনায় নেই। আবার তরুণ-তরুণীদের একাংশ যারা এখনই বিয়ে করতে চায় না, বিয়েকে ক্যারিয়ার ধ্বংসের মাধ্যম মনে করে। জীবনকে উপভোগ করার আকাশ সমান স্বপ্নে বিভোর। তারাই কেবল সুখ নামের এই চোরাবালিতে পা বাড়ায়। লিভ-ইন এর এ সম্পর্ক থেকে পরবর্তীতে অনেকেই বেড় হয়ে আসতে চায়। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়, যে বের হয়ে আসতে চায় তাকে। যার ফলে অনেকেই আত্মহত্যার মতো ভয়াল পথকে বেচে নেয়। এভাবেই নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে হাজারও পরিবারের স্বপ্ন।
এছাড়াও নানান সময় তাদের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। সামাজিক এবং আইনি ভাবে এ সম্পর্কের কোন বৈধতা নেই। তাই ইসলাম এমন বিবাহ বহির্ভূত মানবতা বিধ্বংসী বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ এই লিভ-ইন সম্পর্কের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেন, তোমরা জিনার নিকটবর্তীও হইও না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ,
(সূরা বনী ইসরাঈল ৩২)।
হাদিস শরীফে রাসুল (সা.) বলেন, অর্ধরাতে আকাশের দরজা উন্মুক্ত করা হয়। তখন মহান আল্লাহ তাআ'লা আহ্বান করে বলেন, কোন প্রার্থনাকারী আছে কী? তার প্রার্থনা কবুল করা হবে। কোন প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি আছে কী? তাকে সাহায্য করা হবে। কোন সংকটে নিমজ্জিত ব্যক্তি আছে কী? তার সংকট দূর করা হবে। এসময় কোন মুসলমান দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হবে। তবে অশ্লীল কাজে লিপ্ত জিনাকারী তার প্রার্থনা কবুল হয় না।
অন্য বর্ননায় রয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআ'লা তার মাখলুকের পাশে থাকেন, যে ক্ষমা চায় তাকে ক্ষমা করেন। তবে যে নারী অশ্লীল কাজে লিপ্ত, তাকে ক্ষমা করেন না, (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ৩৪২০)।
এ হাদিস দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, লিভ-ইন এর মতো বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্কে যারা নিয়োজিত, তারা মহান আল্লাহ তাআ'লার নিকট অত্যন্ত নিন্দিত। তাদেরকে পরকালের কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে। দুনিয়াতেও রয়েছে নানান মসিবত।
হাদিসের ভাষ্য মতে সামুরা ইবনু জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) একদিন সকালে আমাদেরকে বললেন, গতরাতে আমি স্বপ্ন দেখলাম আমার কাছে দু'জন আগন্তুক আসলো, আর আমাকে বললো চলুন, আমি তাদের সঙ্গে চললাম। তারা আমাকে একটি চুলার কাছে নিয়ে গেলো, যেই চুলার উপরের দিকে সরু এবং নিচের দিকে প্রশস্ত ছিলো। সেখান থেকে নর-নারীর প্রবল চিৎকার ভেসে আসছিলো। কিছুক্ষণ পর দেখলাম সেই চুলার উত্তপ্ত শিখার সাথে তারাও উপরে উঠছে আর নিচে নামছে। আমি আগন্তুককে বললাম, এদের এমন বীভৎস শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? আগন্তুক বললো, এরা অবৈধ সম্পর্ককারী বেবিচারী ও বেবিচারিনী নারী পুরুষ, (বুখারী ৭০৪৭)।
লিভ-ইন এর মতো বিবাহ বহির্ভূত এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে মহান আল্লাহ তাআ'লা আমাদের সকলকেই হেফাজত করুন।
লেখক: ইসলামিক দায়ী ও সমাজ গবেষক
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম