প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:২১ AM

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক পরিবারের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামে এক ঘরে ৫ বছর বয়সী শিশুসন্তান হুজাইফার রক্তাক্ত মরদেহ এবং অন্য ঘরে অন্তঃসত্ত্বা মা সুমাইয়া আক্তারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুমাইয়াকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুমাইয়া ২২ বছর বয়সী এবং তিনি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সিজার করার কথা ছিল। সুমাইয়া ফরিদপুর সদরের কৈজুরী গ্রামের রমজান খানের মেয়ে। ২০২০ সালে তার সঙ্গে রমজান মুন্সীর বিয়ে হয়। হুজাইফা তাদের একমাত্র সন্তান। রমজান দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন, দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে অন্য দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
রমজানের বাবা মোতালেব মুন্সি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির কাছে গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন। চিৎকার শুনে বাড়িতে এসে তিনি এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেন। তিনি বলেন, রমজান ও সুমাইয়ার মধ্যে সম্পর্ক সাধারণত ভালো ছিল এবং তাদের মধ্যে কোনো কলহের কথা শোনা যায়নি। তবে কিছু প্রতিবেশী জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি শুনতে পাওয়া যেত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল আসিফ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সুমাইয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে। হুজাইফাকে ঘরের মধ্যেই গলা কাটা এবং কম্বল প্যাঁচানো মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদীর রায় জানান, রমজান মুন্সী বর্তমানে ফরিদপুরে স্ত্রী ও সন্তানের লাশের পাশে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ