
সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাড়তি চাহিদা সামলাতে যুক্তরাজ্যের এসেক্স কাউন্টিতে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে গুগল। তবে প্রকল্পটি নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পরিবেশগত উদ্বেগ। পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, এই সেন্টার থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের সম্ভাবনা রয়েছে যা হিথ্রো থেকে মালাগা রুটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০০টি স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটের সমান। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
থাররকের ৫২ হেক্টর জমিতে নির্মীয়মাণ হাইপারস্কেল এই সেন্টার অনুমোদন পেলে যুক্তরাজ্যে এআই ও ডেটা প্রসেসিংয়ের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র হবে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, এটি শুধু বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনই ঘটাবে না, বরং বিদ্যুৎ ও পানির মতো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরও বিরাট চাপ ফেলবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ফক্সগ্লোভ বলছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্প একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়েও বেশি দূষণ ঘটাতে পারে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা নিজেদের মুনাফার জন্য যুক্তরাজ্যের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্টারমার সরকারের পূর্বাভাস, ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই ব্যবহারজনিত কারণে কম্পিউটিং ক্ষমতার চাহিদা ১৩ গুণ বাড়বে। সেই চাপ সামলাতে দেশজুড়ে একাধিক নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা—এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়বে, পানি সংকট তীব্র হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়বে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২.৫ শতাংশ দখল করে আছে ডেটা সেন্টারগুলো। হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার চার গুণ বাড়তে পারে।
যদিও গুগল দাবি করছে, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সীমিত এবং যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক কার্বন বাজেটে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তবে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে নারাজ।
ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তারা মনে করে, বিদ্যুৎ গ্রিডকে কার্বনমুক্ত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কারণে ডেটা সেন্টারগুলো বড় সমস্যা তৈরি করবে না। বরং আশঙ্কা হলো যদি যথেষ্ট বিনিয়োগ না হয় তবে দেশটি “কম্পিউট গ্যাপ”-এর মুখে পড়তে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও এআই খাতে নেতৃত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে গুগল টিসাইডেও একটি বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এক প্রতিবেদনে বেইন অ্যান্ড কোম্পানি জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই ও ডেটা সেন্টার খাত বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ২ শতাংশ এবং শিল্পখাতের ১৭ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোতে প্রভাব আরও ভয়াবহ হবে।
তবে থাররকের প্রস্তাবিত সেন্টার নিয়ে গুগল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। টিসাইড প্রকল্প নিয়েও তাদের বক্তব্য, “আমরা গুজব বা জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করি না।”