
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের মাটিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বীজ বপন করেছিলেন, আজ তা বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আমাদেরকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কে এই সাহস দেখিয়েছে? আমরা কি রোহিঙ্গা? বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।
গতকাল রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজ মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি উল্লেখ করে আসিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, “বাংলাদেশের মাটি কামড়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথ ধরেই নেত্রী খালেদা জিয়া কারাবরণ করেছেন, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।”
এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “১১ মাসের সন্তানসম একটি রাজনৈতিক দল এনসিপি তৈরি করেছেন। এই দলের মাধ্যমে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। আমাদের রক্ত এই মাটির সাথে মিশে আছে। সেই জায়গা থেকে এনসিপিকে বলছি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের পথে বিএনপি যাবে বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা প্রত্যাহার করুন। আমাদের ভারতের হাসিনার পথ দেখাবেন না। সেই পথে আপনারা যাবেন, আমরা নয়।”
নিজেদের কবর নিজেরাই রচনা করবেন উল্লেখ করে জামায়াত ও এনসিপিকে
হুঁশিয়ারি দিয়ে পাপিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পার্লামেন্ট থেকে
রাজপথ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিএনপি। আজ বিএনপিকে ভারত পাঠানোর
হুমকি দেওয়া হচ্ছে!”
জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ও এনসিপি মনে করে, জামায়াতকে সাথে নিয়ে জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছে, তাতে তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। অথচ, যখন আমরা বলি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেছিল, তখন তারা আমাদের আ.লীগের ভাষায় কথা বলার অভিযোগ তোলে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল আর কারা বিপক্ষে ছিল।”
নতুন দল এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এনসিপিরা বলছে, আওয়ামী লীগকে যেভাবে উৎখাত করা হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে উৎখাত করা হবে। এসব হুমকি দিয়ে কিছু হবে না।”
এছাড়া নির্বাচন পরিকল্পনা নিয়ে ড. ইউনুসকে সতর্কবার্তা দিয়ে পাপিয়া বলেন, “ড. ইউনুস যদি মনে করেন, শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফলাফল ছিল ২০০৮ সালের নির্বাচন, এবং সেই ধারায় এনসিপি-জামায়াত মিলে ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করবেন তাহলে সেটি দুঃস্বপ্নেই রয়ে যাবে।”