প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৩১ AM

ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের এক নেতা স্বীকার করেছেন যে, তিনি গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।
রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফ হাসান অনু আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন তাকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন জানান।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং শরিফ হাসান অনুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই তথ্য সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জাকির হোসেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শরিফ হাসান অনু ‘অপারেশন ঢাকা ব্লকড’-এর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রিয়াংকা রানওয়ে সিটি উত্তরা, মিরপুর ডিওএইচএস এবং দেশের অন্যান্য স্থানের এসটিএম ও সিটিএম সদস্যদের নিয়ে গোপন কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এই জবানবন্দি নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়াও, জামিন পেলে আসামি পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তার জামিনের বিরোধিতা করেছেন।
ডিবি পুলিশ গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার একটি এলাকা থেকে শরিফ হাসান অনুকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ জুলাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ঢাকায় একটি গোপন বৈঠকের আয়োজন করে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা বৈঠকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীসহ ৩০০–৪০০ জন অংশ নেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পেলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় সমবেত হবেন। পরে শাহবাগ মোড় দখল করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল।
এই ঘটনার পর ১৩ জুলাই ভাটারা থানার উপপরিদর্শক জ্যোতীর্ময় মন্ডল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো