
কুড়িগ্রামের উলিপুরে জাইকার অর্থায়নে ৯ কোটি টাকার তিনটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আট মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও চার দফা মেয়াদ বাড়িয়েও চার বছরেও কাজ শেষ হয়নি। মাটির বদলে বালু ফেলা, সড়ক প্রশস্ত না করে এইচবিবি কাজ শুরু করা এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় সড়কগুলো বৃষ্টিতে ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে গ্রামীণ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বর্ধিতকরণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-এর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধরনীবাড়ী, হাতিয়া ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের তিনটি সড়ক উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল। দায়িত্ব পান রাঙামাটির মেসার্স ছালেহা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের মেসার্স শাহ জব্বারিয়া কনস্ট্রাকশন ও নোয়াখালির মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। তবে তারা কাজ না করে সাব-কন্ট্রাক্ট দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রঞ্জন কুমার মজুমদার ভোলাকে।
তিনি আবার মাটির কাজ ভাগ করে দেন ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক ও সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমানকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে বারবার নিম্নমানের কাজ করায় জাইকার সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সাহেবের আলগা ইউনিয়নের নামাজের চর গ্রামের ফজল শেখ বলেন, “শুনছিলাম রাস্তা পাকা হইবো, আমাদের জন্য ভালা হইবো। কিন্তু এখন দেখি রাস্তা গলার কাঁটা হইছে। আগেই ভালা ছিল।”
ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের ঝাকুয়া পাড়ার রব্বানী মিয়া বলেন, “৪ বছর ধরে কাজ কিছু হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় শুধু মাটি দেওয়া হয়েছে। কোথাও ইট বিছানো হলেও তা ভেঙে যাচ্ছে। ফলে সড়ক ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন জানান, সাব-কন্ট্রাক্টর ভোলা তাকে মাটি ভরাটের কাজ দিয়েছিলেন, কিন্তু টাকা দেননি। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভোলা পালিয়ে গেছেন।
সাব-কন্ট্রাক্টর রঞ্জন কুমার ভোলার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোস্তফা অ্যান্ড সন্স ও শাহ জব্বারিয়া কনস্ট্রাকশনের এক মালিক জানান, “হাতিয়ার কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ করেছি। তবে সাহেবের আলগার কাজ নিয়ে ঝামেলায় পড়েছি। ভোলা চেয়ারম্যানকে টাকা দেয়নি বলে কাজ আটকে আছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফিজানুর রহমান বলেন, “কাজের তত্ত্বাবধান ও বিল প্রদান করেন জাইকা। আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করি। হাতিয়ার কাজ ৬০ ভাগ আর ধরনীবাড়ীর কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে কাজ বন্ধ রয়েছে।”
জাইকার জুনিয়র প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বাতিল হতে পারে।
প্রকল্পের ডেপুটি পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “একটি কাজ প্রায় শেষ, আরেকটির ৭০ ভাগ হয়েছে। সাহেবের আলগা সড়কের কাজ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। নকশা মোতাবেক কাজ না হলে পুরো বিল দেওয়া হবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, “রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ