
সংগৃহীত ছবি
‘ও হঠাৎ এমন করল কেন!’ আত্মহত্যার খবরে আমরা প্রায়ই এমন বাক্য শুনি। যেন সবকিছু হঠাৎ ঘটল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বেশিরভাগ সময়েই মানুষ আত্মহত্যার আগে আশপাশে নানা সংকেত দিয়ে যায়। সমস্যা হলো, আমরা সেগুলো দেখতে পাই না বা গুরুত্ব দিই না। অথচ একটু খেয়াল করলেই অনেক ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। কিছু জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৪ হাজারের মধ্যে। শুধু ২০২৪ সালেই আঁচল ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৩১০ জন শিক্ষার্থী নিজের জীবন শেষ করেছেন।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। দিনটির প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগে—কীভাবে বোঝা সম্ভব, আপনার কাছের কেউ আত্মহত্যার কথা ভাবছেন কি না?
মানুষ সাধারণত সরাসরি আত্মহত্যার কথা বলে না। তবে আচরণ ও কথার মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা: যেমন, “আমার আর বেঁচে থাকার মানে নেই”, “সব শেষ করে ফেললেই ভালো”, “আমি সবার বোঝা হয়ে গেছি।” ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ (NIMH) এবং আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (AFSP) বলছে, এগুলো সরাসরি আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তার ইঙ্গিত বহন করে।
আচরণে বড় পরিবর্তন: হঠাৎ বন্ধু-পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়া, প্রিয় জিনিস অন্যকে দিয়ে দেওয়া, বেপরোয়া কাজ শুরু করা বা দীর্ঘ হতাশার পর অস্বাভাবিক চুপ হয়ে যাওয়া, এসবই সংকেত হতে পারে।
মেজাজের ওঠানামা: বারবার দুঃখ, কান্না, রাগ বা আশাহীনতার প্রকাশ, যা ওই ব্যক্তির স্বাভাবিক স্বভাবের সঙ্গে মেলে না।
কীভাবে কথা বলবেন?
অনেকেই সংকেত দেখেও দ্বিধায় পড়েন, কথা বলবেন কি বলবেন না। কেউ কেউ মনে করেন, সরাসরি প্রশ্ন করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কিন্তু গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে।
খোলামেলা প্রশ্ন করুন। “তুমি কেমন অনুভব করছো?”, “এমন কথা কেন বলছো?”
উত্তরে যা-ই আসুক, বিচার করবেন না। তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে তাকে নিজের কথা বলার সুযোগ দিন।
জরুরি পদক্ষেপ
যদি মনে হয় ঝুঁকি তাৎক্ষণিক, তবে-
তাকে একা ছেড়ে দেবেন না।
সহানুভূতিশীল পরিবারকে জানান।
স্থানীয় জরুরি হেল্পলাইন বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
প্রয়োজনে কাউন্সেলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা ব্যবহার করছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইসাইড সিরিওসিটি রেটিং স্কেল, যা সহজ কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝে একজন আত্মহত্যার কথা ভাবছে কি না, পরিকল্পনা করছে কি না, বা আগে কখনো চেষ্টা করেছে কি না।
আত্মহত্যা নিয়ে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। একটি মনোযোগী দৃষ্টি, একটি ফোনকল কিংবা সহানুভূতির হাত হয়তো একটি জীবন বাঁচাতে পারে। মনে রাখুন, সাহায্যের প্রথম ধাপ হলো পাশে দাঁড়ানো এবং শোনা।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ, আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সুইসাইড সিরিওসিটি রেটিং স্কেল।